সোনার চেন হাতাতে নিজেরই বন্ধুকে নৃশংস খুন! মহারাষ্ট্রের রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে শিউরে উঠল পুলিশ

জন্মদিনের জাঁকজমকপূর্ণ সেলিব্রেশন আর মনের মতো একটি বাইক কেনার শখ। আর সেই শখ পূরণ করতে টাকার লোভে নিজেরই ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে নৃশংসভাবে খুন করল দুই কিশোর। মহারাষ্ট্রের থানেতে ঘটা এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডে হতবাক খোদ তদন্তকারী আধিকারিকরাও। সোনার চেন ছিনতাইয়ের ছক কষেই এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, মৃত ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরের নাম প্রয্যোৎ কাম্বলে। সে গলায় একটি সোনার চেন পরত। আর সেই চেনটিই ছিল দুই অভিযুক্ত নাবালকের টার্গেট। একজনের জন্মদিনের পার্টির জন্য টাকা দরকার ছিল, আর অন্যজনের শখ ছিল মোটরবাইক কেনার। এই দুই চাহিদা মেটাতে মোটা টাকার প্রয়োজন হওয়ায় প্রয্যোৎকে পৃথিবী থেকে সরানোর পরিকল্পনা করে তারা।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিল প্রয্যোৎ। ছেলের খোঁজ না মেলায় রাতেই থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন তার বাবা। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দুই বন্ধুকে জেরা শুরু করলে তারা প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়। তারা দাবি করে, প্রয্যোৎ অপরিচিত এক যুবকের সঙ্গে বাইকে করে কোথাও চলে গিয়েছিল।

কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় আশপাশের প্রায় ৯০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্ক্যান করা হয়। ফুটেজ খতিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্তরা যা বলছে তার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এরপর ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও মোবাইল লোকেশনের ভিত্তিতে ওই দুই কিশোরকে ফের কঠোরভাবে জেরা করা হয়। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে তারা সমস্ত সত্য স্বীকার করে।

পুলিশের কাছে ধৃতরা জানিয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সিগারেট খাওয়ানোর অছিলায় প্রয্যোৎকে একটি নির্জন ও জঙ্গলঘেরা এলাকায় ডেকে নিয়ে যায় তারা। সেখানে প্রথমে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং পরে পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়। এরপর মৃতদেহের গলা থেকে সোনার চেনটি খুলে নিয়ে চম্পট দেয় তারা। প্রমাণ সম্পূর্ণ লোপাট করতে প্রয্যোতের দেহ পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তার মোবাইল ফোনটি একটি চলন্ত বাসের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশ দুই নাবালক অভিযুক্তকে আটক করে পুরো ঘটনার রহস্যভেদ করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *