পাঞ্জাব ও দিল্লির পর এবার ওড়িশা দখল! ছাত্র সংসদ নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে তোলপাড়, কী বললেন অমিত শাহ?

ওড়িশার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-র বিপুল সাফল্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর ওড়িশায় ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠনটি ১৩টির মধ্যে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই সাফল্যের পরেই সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এবিভিপির এই জয়ের পরেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “পাঞ্জাব, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল জয়ের পর, ওড়িশাজুড়ে এই অভূতপূর্ব রায় আমাদের দেশের যুবশক্তির অটল মানসিকতার আরও এক প্রমাণ। ভারতের যুবশক্তি দৃঢ়ভাবে ‘দেশ প্রথম’ আদর্শের পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে।” একইসঙ্গে কড়া আক্রমণ শানিয়ে তিনি আরও বলেন, “যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, রাস্তায় অশান্তি ছড়াতে চায় এবং ভারতের শাসনব্যবস্থাকে বাংলাদেশের ধাঁচে বদলে ফেলার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের কাছে এই ধ্বংসাত্মক এজেন্ডার কোনো স্থান নেই। এর পরিবর্তে আমাদের যুবসমাজ স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় গর্বকে বেছে নিয়েছে।”
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এবিভিপির এই সাফল্যকে ‘দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কড়া জবাব’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, মিথ্যা প্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী শক্তির পরিবর্তে দেশের তরুণ প্রজন্ম ‘রাষ্ট্র প্রথম’ বা ‘Nation First’ নীতিকেই বেছে নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ওড়িশায় সরাসরি রাজনৈতিক প্রতীকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থিত সংগঠনগুলি লড়াইয়ে থাকে। এই নির্বাচনে এবিভিপির দাপটকে কেন্দ্র করে বিজেপি শিবিরের উচ্ছ্বাস যেমন তুঙ্গে, তেমনই বিজু জনতা দল (BJD)-সহ বিরোধী শিবিরও তাদের প্রভাব ধরে রাখতে পাল্টা দাবি পেশ করেছে। ক্যাম্পাসের এই ফলাফলকে ঘিরে ওড়িশার রাজনীতিতে এখন চরম তরজা শুরু হয়েছে।