“গাড়িতে তুলে ২ ঘণ্টা হেনস্থা, জাপটে ধরে মারধর!” ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশের পর বিস্ফোরক লেখা ওয়াশিংটন

রাজনৈতিক প্রতিবাদ সভায় যোগ দিয়ে মারাত্মক আইনি বিপাকে পড়লেন বলিউডের ‘জানে তু… ইয়া জানে না’ খ্যাত অভিনেতা ইমরান খান। ফরেনার্স রিজিনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-র পক্ষ থেকে তাঁকে আগামী ২৮ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জোর শোরগোল শুরু হতেই প্রথমবার মুখ খুললেন তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন। পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও মারধরের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

কী ঘটেছিল অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে?

ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। মুম্বইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা একটি প্রতিবাদ সভায় আরও প্রায় ৪০০ জনের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান খান। দেশের ভোটার তালিকায় গরমিলের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা চলাকালীনই পুলিশ ইমরানকে আটক করে।

প্রেমিকা লেখার বিস্ফোরক অভিযোগ

এই ঘটনার পর ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্ট করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইমরানের প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন। তিনি জানান, ১০ অক্টোবর আটক বন্ধুদের খোঁজ নিতে ইমরান, তাঁর মা নুজহাত এবং বোন জায়ন মেরি খানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে গিয়েছিলেন।

সেখানকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লেখা লেখেন, “পুলিশ কর্মীরা আমাকে ও জায়ন মেরিকে জাপটে ধরে এবং শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে।” এরপর তাঁদের জোর করে পুলিশের গাড়িতে তুলে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে শহরের রাস্তায় ঘুরিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি ছাড়া পাওয়ার পর কোনো পাবলিক ট্র্যান্সপোর্ট ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

কেন দেওয়া হলো ‘ভারত ছাড়ো’ নোটিশ?

ইমরান খান আমেরিকার নাগরিক এবং তাঁর কাছে ‘ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া’ (OCI) কার্ড রয়েছে। ওসিআই নিয়মনীতি অনুযায়ী, এই কার্ডধারীরা ভারতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি বা প্রতিবাদ সভায় অংশ নিতে পারেন না। রাজনৈতিক বিক্ষোভ পুরোপুরি নিষিদ্ধ হওয়ায় ইমরান প্রত্যক্ষভাবে অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেছেন বলে দাবি করেছে এফআরআরও।

অন্যদিকে, এই বিষয়টিতে রাজনৈতিক রঙও লেগেছে। বিজেপি নেতা কিরীতি সোমাইয়া আগেই প্রশ্ন তুলেছিলেন—একজন বিদেশি নাগরিক কীভাবে ভারতে রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিতে পারেন? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসক শিবিরের চাপের কারণেই তড়িঘড়ি ইমরানকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি

যদিও আটক থাকার সময় ইমরান স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সেখানে গিয়েছিলাম।” এফআরআরও-র জারি করা এই নোটিশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২৮ অক্টোবরের ডেডলাইনের আগেই বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অভিনেতা। ওসিআই কার্ডধারীদের অধিকার এবং বাক স্বাধীনতা সংক্রান্ত বিষয়ে এই মামলা ভবিষ্যতে বড় নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *