“রুবিওকে দেখতে মুম্বাই যেতে হবে জয়শঙ্করকে!” মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক, মোদীকে তীব্র আক্রমণ রাহুলের!

মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিও-র সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন যে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মুম্বাইয়ে গিয়ে মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই মন্তব্যের পরই কড়া ভাষায় নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছেন লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ঠিক কী মন্তব্য ছিল?
গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নতুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘ব্লুমবার্গ নিউ ইকোনমি ফোরাম’-এর একটি বিশেষ সেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর বলেন, মার্কিন বিদেশ মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে দেখা করতে দিল্লির প্রতিনিধি দল এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মুম্বাইতে উপস্থিত থাকবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

উল্লেখ্য, মার্কো রুবিও আগামী ১৭ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ভারত সফরে আসছেন। চলতি বছরে এটি তাঁর দ্বিতীয় ভারত সফর। এই সফরে তিনি মুম্বাই এবং গুজরাটের জামনগর (রিলায়েন্স রিফাইনারি) পরিদর্শন করবেন। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, এই দফায় মার্কিন বিদেশমন্ত্রী রাজধানী নয়াদিল্লিতে আসছেন না।

মোদী সরকারকে নিশানা রাহুল গান্ধীর
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের পরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে তিনি লেখেন, “মার্কিন বিদেশমন্ত্রী তাঁর কর্মচারীকে মুম্বাইয়ে ডেকে পাঠিয়েছেন।” বিদেশ মন্ত্রকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল আরও বলেন, দেশে আসলে ঠিক কী চলছে, তা নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরাই চরম বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন।

সরব কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও
শুধু রাহুল গান্ধীই নন, সরকারের এই নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও। কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সরকারি বৈঠক বা সফরসূচির ঘোষণা কবে থেকে বিদেশ মন্ত্রক (MEA) বাদে অন্য কেউ করতে শুরু করল? ভারতের বিদেশ নীতির দায়িত্ব কি তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে আউটসোর্স করা হয়েছে?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের বিদেশ নীতি নিয়ে দেশ অন্ধকারের রয়েছে। এই গোটা ঘটনায় মোদী সরকারের নীরবতা নিয়ে এখন চতুর্দিকে জোরালো সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *