পুজোর সকালে উঠে আয়নায় চোখ পড়তেই মাথায় হাত? নিমেষে ব্রণ গায়েব করার জাদুকরী কৌশল!

উৎসবের আনন্দময় সকাল। মন জুড়ে একরাশ উদযাপনের ফুরফুরে অনুভূতি। আলমারির কোণ থেকে সাবধানে বের করা হয়েছে প্রিয় পছন্দের জামাকাপড়। তবে সব সাজগোজ শেষ করে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই হঠাৎ চক্ষু চড়কগাছ! নাকের একদম ডগায় কিংবা গালের ঠিক মাঝখানে স্পষ্ট উঁকি দিচ্ছে একটি লালচে ও যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। নিমেষের মধ্যে সব আনন্দ উধাও হয়ে মুড এক লহমায় খারাপ হয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। মনে হতে থাকে, বিগত কয়েক সপ্তাহের যাবতীয় ধৈর্য্য ও রূপচর্চা যেন মুহূর্তে জলে ভেসে গেল! তবে এমন চরম বিপদের দিনে মন খারাপ করে বসে থাকার কোনো দরকার নেই। হাতের কাছে থাকা সামান্য কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের গুণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
এই ধরনেরEmergency পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে পার্লারে ছুটে যাওয়ার বা বাজারচলতি রাসায়নিক যুক্ত দামি ক্রিম মাখার কোনো প্রয়োজনই নেই। আপনার নিজের রান্নাঘর এবং ফ্রিজে একটু তল্লাশি চালালেই পেয়ে যাবেন এমন কিছু জাদুকরী ঘরোয়া উপাদান, যা উৎসবের দিনগুলোতেও আপনার ত্বকের প্রকৃত জেল্লা অক্ষুণ্ণ রাখবে।
হঠাৎ ফুটে ওঠা ব্রণের লালচে ভাব, তীব্র জ্বালা এবং ফোলা ভাব দ্রুত কমাতে বরফের কোনো বিকল্প নেই। একটি পরিষ্কার সুতির পাতলা কাপড়ে কয়েক টুকরো ঠান্ডা বরফ পেঁচিয়ে নিয়ে ব্রণের ওপর হালকা হাতে চেপে সেঁক দিন। তবে ভুলেও কখনো সরাসরি বরফ ত্বকের ওপর ঘষবেন না। কয়েক মিনিট এই পদ্ধতি অনুসরণ করলেই দেখবেন লালচে ভাব ও ফোলা ভাব অনেকটাই মিলিয়ে গিয়েছে।
পাশাপাশি দারচিনি ও মধুর মিশ্রণও এক্ষেত্রে চমৎকার কাজ করে। দারচিনির প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান এবং মধুর গভীর আর্দ্রতা একসাথে মিলে ব্রণের জীবাণু ধ্বংস করতে দারুণ কার্যকরী। এক চিমটে বিশুদ্ধ দারচিনি গুঁড়োর সাথে সামান্য খাঁটি মধু মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগিয়ে রাখুন। পনেরো মিনিট পর হালকা ঈষদুষ্ণ জলে মুখ ধুয়ে ফেললেই মিলবে স্বস্তি।
ত্বকের যেকোনো সমস্যা সমাধানে অ্যালোভেরা জেল চিরকালই মহৌষধ হিসেবে বিবেচিত। ব্রণের উপদ্রব দেখা দিলে আক্রান্ত স্থানে সামান্য টাটকা অ্যালোভেরা জেল মাখিয়ে রাখুন। এটি ত্বকের ভিতরের পোড়াভাব ও অস্বস্তি কমায় এবং দ্রুত ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে। এছাড়া টি-ট্রি অয়েলও অত্যন্ত কার্যকর। সামান্য তুলোয় মাত্র এক ফোঁটা টি-ট্রি অয়েল নিয়ে ঠিক ব্রণের ওপর আলতো করে চেপে দিন। তবে খেয়াল রাখবেন, এটি কখনোই পুরো মুখে সরাসরি বেশি পরিমাণে মাখবেন না।
রান্নাঘরের অতি পরিচিত উপাদান হলুদ ও গোলাপ জলের পেস্টও এক্ষেত্রে সমান উপযোগী। হলুদের অ্যান্টি-সেপ্টিক গুণাবলী ব্রণের সংক্রমণ দ্রুত রোধ করে। সামান্য হলুদের সাথে গোলাপ জল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে ব্রণের ওপর লাগান এবং শুকিয়ে গেলে পরিষ্কার জলে ধুয়ে ফেলুন।
উৎসবের এই দিনগুলিতে মিষ্টি ও ভাজাভুজি খাওয়া একটু বেশিই হয়, তাই ত্বক সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া অত্যন্ত আবশ্যক। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হাত দিয়ে বারবার ব্রণ স্পর্শ করবেন না বা গাল টিপে ফাটানোর চেষ্টা করবেন না, এতে মুখে স্থায়ী দাগ তৈরি হতে পারে। এই সামান্য নিয়ম মেনে চলুন আর প্রাণখুলে উপভোগ করুন উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত।