“দূর হটো, বন্ধ করো সম্মেলন!” বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তুলতেই হট্টগোল, হাতাহাতির উপক্রম রাজধানীতে

দিল্লির কনট প্লেসে আয়োজিত নাগরিক সমাজ ও ছাত্র সংগঠনের যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র বিশৃঙ্খলা ও হইচইয়ের জেরে ছড়ালো চরম উত্তেজনা। ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA)-র সভানেত্রী নেহা বোরা এবং সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের উপস্থিতিতে চলা ওই সংবাদ সম্মেলনে আচমকাই প্রতিবাদীদের একাংশ সোচ্চার হয়ে ওঠে, যার ফলে মাঝপথেই ভেস্তে যায় পুরো কর্মসূচি।
“দূর হটো!” স্লোগানে উত্তাল সম্মেলন কক্ষ
সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন আচমকাই দর্শকদের মধ্য থেকে একদল মানুষ তীব্র প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। “বন্ধ করো তোমাদের সম্মেলন, দূর হটো” স্লোগানে চারদিক মুখরিত হয়ে উঠলে দৃশ্যতই বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে নেহা এবং অভিজিৎ দীপক নিজেদের আসন ছেড়ে উঠে যেতে বাধ্য হন। স্থান ত্যাগ করার পূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের অবিলম্বে হল ঘর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য আয়োজকদের নির্দেশ দেন ছাত্রনেত্রী।
নেপথ্যে কি নেহা বোরার ‘বাংলাদেশ’ মন্তব্য?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ নেহা বোরার একটি অত্যন্ত বিতর্কিত মন্তব্যই এই ক্ষোভের মূল কারণ। সম্প্রতি বাংলাদেশের বৃহত্তম একটি ছাত্র সংগঠনের ভার্চুয়াল সম্মেলনে অংশ নিয়ে নেহা বোরা ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ‘জেন জি’ (Gen Z) আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বিজেপির প্রকাশিত একটি ভিডিও ক্লিপে তাঁকে বলতে শোনা যায় যে, ভারতে তরুণ সমাজকে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ করার পেছনে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের বড় ভূমিকা ও অনুপ্রেরণা রয়েছে।
রাহুল গান্ধীকে ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ
নেহা বোরা এবং প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে শাসক দল বিজেপি ইতিমধ্যেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরকে তীব্র আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটাধিকারের লড়াইয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ছাত্র আন্দোলনকে মডেল হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টাকে সহজভাবে নিতে পারছেন না দেশের নাগরিকদের একাংশ। দিল্লির বুকে সাংবাদিক বৈঠকে এই অভূতপূর্ব বিক্ষোভের জেরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে।