‘রং করার জন্য কি দুর্ঘটনা হয়?’ শুভেন্দু-অগ্নিমিত্রার মন্তব্যে শোরগোল! আসল সত্যটা কী?

কলকাতার রামধনু রঙের রাস্তায় একের পর এক বাইক স্কিড করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক এখন তুঙ্গে। বৃষ্টির মধ্যে সদ্য রং করা পিচের রাস্তায় বাইকের চাকা পিছলে যাওয়ার এই ঘটনায় জনমনে বড়সড় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিংড়িহাটা ফ্লাইওভারের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—বিদেশেও কি এমন রঙিন রাস্তা রয়েছে? আর থাকলে সেখানেও কি কলকাতার মতো আকছার এমন বাইক দুর্ঘটনা ঘটে?

এই বিতর্ক প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ কথা, ‘রং করার জন্য দুর্ঘটনা হয় নাকি! কতগুলো উড়ালপুলে দুর্ঘটনা হয়েছে?’ অন্যদিকে, বিশ্বের একাধিক দেশে রামধনু রঙের রাস্তা রয়েছে বলে এর সপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বস্তুত, আমেরিকা, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে বহু বছর ধরেই এমন নান্দনিক রাস্তা তৈরি করা হয়ে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সেখানেও কি তবে কলকাতার মতো এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় সাধারণ মানুষকে?

বিদেশের রঙিন রাস্তার আসল চিত্রটি কী? খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, বিদেশের রাস্তাগুলির অধিকাংশই কিন্তু কলকাতার মতো যানবাহন চলাচলের মূল হাইওয়ে, ফ্লাইওভার বা দীর্ঘ অংশজুড়ে নয়। বরং সেগুলির অধিকাংশই তৈরি করা হয়েছে পথচারীদের চলাচলের জন্য, যা মূলত ‘রামধনু রঙের জেব্রা ক্রসিং’ (Rainbow Crossing) হিসেবে পরিচিত। কলকাতার মতো যানবাহন ও বাইক চলাচলের প্রধান রুটে এভাবে পুরো উড়ালপুল রাঙিয়ে তোলার নজির বিদেশে মেলা ভার।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার ওয়েস্ট হলিউডের কথা। ২০১২ সালে সেখানে স্যান ভিসেন্টে বুলেভার্ড (San Vicente Boulevard) এবং সান্তা মনিকা বুলেভার্ডের (Santa Monica Boulevard)-এর সংযোগস্থলে একটি স্থায়ী রামধনু রঙের ক্রসিং তৈরি করা হয়েছিল, যা বিশ্বের প্রথম স্থায়ী রেইনবো ক্রসিং হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস (Los Angeles Times)-এর একটি প্রতিবেদনে ওই ক্রসিংগুলিতে পথচারী ও গাড়ির সংঘর্ষের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছিল। তবে তদন্তে বা সমীক্ষায় এ রকম কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি যে, ওই দুর্ঘটনাগুলি কেবল রামধনু রং করার জন্যই ঘটেছিল।

চিংড়িহাটা থেকে গড়িয়াহাট—কলকাতার একের পর এক ফ্লাইওভারের রং বদল এবং তারপর বাইক স্কিড করার ভাইরাল ভিডিও ঘিরে যখন সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে, তখন ভিনদেশি মডেলের সঙ্গে এই তুলনামূলক চিত্রটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *