“নিজের দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মোদী-শাহ!”-দীপকে-নেহাদের গুরুতর মন্তব্য

নিজের দেশের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধেই যেন এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ— এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন সিজেপি (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তাঁর সরাসরি দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতেই দেশের সাধারণ আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে তাবড় বিরোধী নেতাদের ওপর দমনপীড়ন চালাচ্ছে কেন্দ্র। অন্যথায় এভাবে কাউকে আটকে রাখা হতো না বলে তোপ দেগেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে একমঞ্চে অভিজিৎ, নেহা ও প্রকাশ রাজ বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খোদ অভিজিৎ দীপক, এসা (AISA) নেত্রী নেহা বোরা এবং বিশিষ্ট অভিনেতা তথা সমাজকর্মী প্রকাশ রাজ। এই তিন জনই যৌথভাবে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে দাবি করেন, কেবল একজন মানুষকে বাঁচানোর জন্যই দেশজুড়ে শত শত আন্দোলনকারীকে হেনস্তা ও আটক করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অভিজিৎ দীপক বলেন, ‘সমস্ত ছাত্র সংগঠন ও দিল্লির তরুণেরা আজ রাস্তায় নেমেছেন, আর তাঁদের টেনে-হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছে। নেহার সঙ্গেও ঠিক এই আচরণই করা হয়েছে। ঐশী, ভিলা, ইশা— কাউকেই ছাড় দেওয়া হয়নি। কার স্বার্থে? কেবল জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে।’ শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদেরও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে রেল ও মেট্রো পরিষেবা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সিজেপি নেতা।

যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার ও গ্রেফতারি প্রসঙ্গত, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে পাঁচিল টপকে যন্তর মন্তরে ঢুকে পড়েছিলেন সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক শিন্ডে এবং সৌরভ দাস। এই ঘটনার পরই তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং সৌরভ ও আশুতোষকে সোজা তিহাড় জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই গ্রেপ্তারি এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহেই বৃহস্পতিবারের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও শাণিত করলেন অভিজিৎ দীপক ও তাঁর সঙ্গীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *