তেরঙা ধরেও রেহাই নেই, তিহার জেলে দুই তরুণ নেতা! রাজধানীতে হঠাৎ কী ঘটল?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্রতর করে তুলল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার এক হাই-প্রোফাইল সাংবাদিক সম্মেলনে দলের প্রধান অভিজিৎ দিপকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, স্রেফ বিতর্কিত প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আইনি ও প্রশাসনিক সুরক্ষা দিতে গোটা দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে এক প্রকার ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করেছে কেন্দ্র।
আইসা (AISA) নেত্রী নেহা বোরা এবং বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজকে সঙ্গে নিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে দিপকে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। সম্প্রতি সিজেপির দুই শীর্ষ প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পরদিনই সিজেপি প্রধান সোচ্চার হয়ে বলেন, “এ দেশের যুবসমাজ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটার তালিকার সুরক্ষার দাবিতে রাজপথে নেমেছে। কিন্তু তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার চালানো হচ্ছে। নেহা কিংবা অন্য তরুণ কর্মীদের রাস্তায় টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্রেফ ওই একটি মাত্র মানুষকে বাঁচাতেই কি সাধারণ মানুষের অধিকারকে পিষে মারা হচ্ছে?”
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিপকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে আনেন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী এনডিএ (NDA) এবং বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের প্রাপ্ত সার্বিক ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশের কাছাকাছি। ফলে বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যে নিরপেক্ষ ভূমিকা ছেড়ে পরোক্ষভাবে শাসকদলকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন না, তা নিয়ে দেশের আমজনতার মনে এখন গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, সমস্ত পুলিশি হেনস্থা ও সরকারি দমনপীড়ন সত্ত্বেও তাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে তারা একচুলও পিছু হটবে না।