পুজোর আগেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকছে ৩০০০ টাকা! অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন কিস্তি নিয়ে বড় আপডেট

শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। জামাকাপড় কেনাকাটা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া এবং পুজোর সার্বিক প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে প্রতিটি পরিবারেই এখন বইছে উৎসবের আনন্দধারা। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই রাজ্যের কোটি কোটি উপভোক্তা মহিলার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে, চলতি অক্টোবর মাসে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র ৩,০০০ টাকার চতুর্থ কিস্তি ঠিক কবে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? উৎসবের এই দিনগুলিতে সংসারের খরচ ও কেনাকাটার সুবিধার্থে এই টাকার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে রয়েছেন রাজ্যের সাধারণ মহিলারা।

সাধারণত দেখা যায়, প্রতি মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে, যেমন গত সেপ্টেম্বর মাসে ১৭ তারিখ ‘অন্নপূর্ণা দিবস’ উপলক্ষে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হয়েছিল। তবে চলতি অক্টোবর মাসের হিসাব কিছুটা আলাদা। দুর্গাপুজোর টানা ছুটি ও ব্যাংকগুলি বন্ধ থাকার কারণে মাসের ১৭ তারিখের পর টাকা পাঠানো প্রশাসনিকভাবে যথেষ্ট কঠিন। ফলস্বরূপ, চলতি মাসে ঠিক কত তারিখ নাগাদ মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে, সেই বিষয়ে দিনকয়েক আগে পর্যন্তও স্পষ্ট কোনো ধারণা ছিল না।

তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নবান্ন সূত্রে মিলছে বড় খবর। পুজোর ছুটির আগেই, অর্থাৎ ১২ থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অক্টোবর মাসের কিস্তি পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য হলো, মহাষষ্ঠীর আগেই যেন রাজ্যের মহিলারা এই আর্থিক সহায়তা হাতে পেয়ে যান, যাতে পুজোর আনন্দে কোনো রকম আর্থিক ঘাটতি বা ছেদ না পড়ে।

কারা পাবেন চলতি মাসের এই টাকা? এই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের মনে। যেসব উপভোক্তা গত মাসগুলিতে নিয়মিতভাবে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পেয়ে আসছেন, তাঁদের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা থাকলে সরাসরি ডিবিটি (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। পাশাপাশি, নতুন আবেদনকারী এবং বিভিন্ন ‘সেবা সেতু’ ক্যাম্প বা অফলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীদের মধ্যে যাঁদের সমস্ত নথি সম্পূর্ণভাবে যাচাই (Verified) ও অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদের নামও এবারের এই তালিকায় যুক্ত করা হচ্ছে।

যাঁদের আবেদনপত্রে বা পোর্টালে স্ট্যাটাস ‘Under Process’ দেখাচ্ছিল, তাঁদেরও দ্রুত ভেরিফিকেশন সেরে টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এর ফলে তাঁরাও এই দফায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টাকা পেতে যদি কোনো কারণে দেরি হয়, তবে উপভোক্তাদের কিছু বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। প্রথমত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর সঠিকভাবে যুক্ত (Aadhaar Seeding) এবং ডিবিটি (DBT) পরিষেবা সক্রিয় রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টালে নিজের নথিভুক্ত মোবাইল নম্বর বা অ্যাপ্লিকেশন আইডি দিয়ে বর্তমান পেমেন্ট স্ট্যাটাস চেক করে নেওয়া যেতে পারে। কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে হেল্পলাইন নম্বর বা স্থানীয় ব্লক অফিসে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *