মাটিতে পুঁতে ওপরের চত্বরে রোপণ করা হলো আম গাছ! ১৯ বছরের তরুণীর মর্মান্তিক পরিণতিতে চাঞ্চল্য

বিহারের মুজফ্ফপুর জেলা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ১৯ বছরের এক তরুণীর রহস্যমৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে তার ওপরে একটি আম গাছ রোপণ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ দীর্ঘ তল্লাশির পর অবশেষে ওই জমি খুঁড়ে মৃতার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনাকে অনার কিলিং বা সম্মানহানির জেরে খুন বলে জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে অন্যদিকে, মৃতার মায়ের দাবি, প্রেমঘটিত সম্পর্কের কথা সমাজে জানাজানি হয়ে যাওয়ার তীব্র লজ্জায় ও মানসিক অবসাদে তাঁর মেয়ে নিজেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতার মা, বোন এবং অপর দুই যুবককে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী আউরাই ব্লকের রামপুর এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার কাজ করতেন। সেই সুবাদেই ওই স্কুলেরই এক শিক্ষক যুবতীর সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। তরুণীর মায়ের দাবি, এই সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় চর্চা শুরু হওয়ায় মেয়ে মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছিল এবং প্রায় আড়াই মাস আগে সে নিজ ঘরে আত্মঘাতী হয়। পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে এরপর তারা লোকচক্ষুর অন্তরালে গ্রামের একটি আমবাগানে মৃতদেহটি গোপনে দাফন করে এবং তার ওপর আমের চারা রোপণ করে দেয়। তবে প্রায় এক মাস ধরে যুবতীর নিখোঁজ থাকার বিষয়টি স্থানীয়দের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় তুমুল গুঞ্জন শুরু হয়। কেউ কেউ তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও অনেকের মনে খুনের আশঙ্কা দানা বাঁধে। অবশেষে পুলিশের কাছে খবর পৌঁছলে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়।

গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ ইদগাহ চক এলাকা থেকে তরুণীর মাকে একটি গাড়ি থেকে আটক করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ অন্যান্যদের হেফাজতে নেয়। এরপর ডুমরি গ্রামের ওই আমবাগানে পুলিশ দল পৌঁছয়। কিন্তু যে স্থানে দেহ দাফন করা হয়েছিল, সেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার জল জমে থাকায় খননকার্য শুরু করতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে পাম্পসেট দিয়ে জল সেচে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় একটানা আট থেকে দশ ঘণ্টা কঠিন পরিশ্রম চালিয়ে পুলিশ মাটি খুঁড়ে দেহের অবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ঘটনাস্থলে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (FSL) বা এফএসএল-এর বিশেষজ্ঞ দলকেও তলব করা হয়।

পূর্বের এসডিপিও অলয় বসের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে এই পুরো ঘটনার উচ্চপর্যায়ন তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং জাজুয়ার থানার ইনচার্জ রোশন কুমার মিশ্রের নেতৃত্বে পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পরই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে। পুলিশ আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আসল সত্য উন্মোচনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *