বিয়ের ঠিক আগেই সব শেষ! ‘ব্রেকিং ব্যাড’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা আরজে মিটির রহস্যমৃত্যুতে কাঁপছে হলিউড!

মাত্র ৩৪ বছর বয়সেই সব শেষ! জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র ওরফে ‘ফ্লিন’-এর চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নেওয়া জনপ্রিয় অভিনেতা আরজে মিটি (RJ Mitte) আর নেই। সোমবার টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে নিজের বাড়ি থেকেই অভিনেতার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে টেক্সাস পুলিশ।
অভিনয়জগতের এই জনপ্রিয় তারকার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পাবলিসিস্ট শন রেইলি। ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-কে তিনি জানান, আরজে মিটি শুধু একজন প্রতিভাবান অভিনেতাই ছিলেন না, একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী হিসেবেও তাঁর বিশেষ খ্যাতি ছিল। বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে থাকা এবং বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের অধিকার রক্ষায় তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। তবে কীভাবে মিটির এমন মর্মান্তিক পরিণতি হলো, সে বিষয়ে শন রেইলি সেই মুহূর্তে কিছু জানাননি। অন্যদিকে, ফক্স নিউজ়ের একটি প্রতিবেদনে অভিনেতার মৃত্যুর পিছনে আত্মহত্যার আশঙ্কার কথা বলা হলেও, পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
‘ব্রেকিং ব্যাড’-এর হাত ধরেই বিশ্বজোড়া পরিচিতি:
২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত জনপ্রিয়তার সঙ্গে চলা ক্রাইম ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ অভিনয় করে রাতারাতি তারকাখ্যাতি পান আরজে মিটি। এই সিরিজে তিনি মূল চরিত্র রসায়ন শিক্ষক ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলে ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র তথা ‘ফ্লিন’-এর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। অপরাধজগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া এক শিক্ষকের পারিবারিক টানাপোড়েনের পটভূমিতে তৈরি এই সিরিজে ফ্লিনের চরিত্রটি দর্শকদের আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছিল। টানা পাঁচটি সিজনে অত্যন্ত সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের সহজাত ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিলেন মিটি।
বাস্তব জীবনের লড়াই ও সমাজসেবা:
পর্দায় শারীরিক প্রতিবন্ধকতাযুক্ত চরিত্রের সফল রূপায়ণ করা মিটি বাস্তব জীবনেও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন। মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি ‘সেরিব্রাল পালসি’ (Cerebral Palsy)-তে আক্রান্ত হন। কিন্তু শারীরিক এই সীমাবদ্ধতাকে নিজের স্বপ্নপূরণের পথে কখনওই বাধা হতে দেননি তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের প্রতি সমাজিক সচেতনতা বাড়ানোর কাজে তিনি আমৃত্যু যুক্ত ছিলেন। ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি এবং শ্রাইনার্স চিলড্রেনসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবেও তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। প্রতিবন্ধী অভিনয়শিল্পীদের কাজের সুযোগ ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারিতে।
বিয়ের পরিকল্পনার মাঝেই অন্ধকার:
ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এই অভিনেতা। ২০২৫ সালে দীর্ঘদিনের বান্ধবী কেনেডি সুয়ারেজের সঙ্গে তাঁর বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। ক্যালিফোর্নিয়ার কার্লসবাডে একটি দাতব্য অনুষ্ঠানে অত্যন্ত রোম্যান্টিক উপায়ে কেনেডিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।
মৃত্যুর মাত্র কিছুদিন আগেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয় ছিলেন মিটি। গত ৮ অক্টোবর অ্যামাজন প্রাইম ভিডিয়োয় মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত ছবি ‘টকিং টু দ্য স্ট্রেঞ্জার্স’, যেখানে তিনি সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির চরিত্রেই অভিনয় করেছিলেন। এমনকি আগামী ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল তাঁর আরও একটি ছবি ‘ওয়ান আই ওপেন’। কিন্তু তার আগেই সব ওলটপালট হয়ে গেল। মিটির এমন আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ তাঁর পরিবার, সহকর্মী ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগণিত অনুরাগী।