প্রতিবাদের প্রাণকেন্দ্রেই তালা ঝোলাল পুলিশ! ‘যন্তর মন্তর কেড়ে গণতন্ত্রের কবর রচনা’, মোদী সরকারকে চরম চ্যালেঞ্জ আন্দোলনকারীদের

দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনবিক্ষোভের সবচেয়ে পরিচিত ও ঐতিহাসিক মঞ্চ ‘যন্তর মন্তর’-এ এবার পাকাপাকিভাবে আন্দোলনের অধিকার কেড়ে নিল দিল্লি পুলিশ। সোমবার এক নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করে জাতীয় রাজধানীর এই প্রাণকেন্দ্রে সমস্ত ধরনের ধর্না, মিছিল, অবস্থান ও রাজনৈতিক সমাবেশ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে নাগরিক সমাজ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে—এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।
দিল্লি পুলিশের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ মেনেই ২০২২ সালের প্রতিবাদ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশিকা সংশোধন করা হয়েছে। সেই নিয়ম মেনেই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হলো। পরিবর্তে আন্দোলনকারীদের জন্য শহরের প্রান্তে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডের মতো তিনটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় তোপ দেগেছে ‘সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস’ (সিজেপি)-র মতো প্রতিবাদী মঞ্চগুলি। সংগঠনের নেতৃত্বের বক্তব্য, সংসদ ভবনের সন্নিকটে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর যাতে নীতিনির্ধারকদের কানে না পৌঁছায়, সেই উদ্দেশ্যেই এই অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীরা দিল্লি পুলিশের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সাফ জানিয়েছেন, নোটিস জারি করে বা ব্যারিকেড তুলে কখনো গণআন্দোলন দমিয়ে রাখা যায় না; প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেই নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, ভোটার তালিকায় অনিয়ম, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরেই যন্তর মন্তর চত্বর হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষের ভিড়ে উত্তাল হয়ে উঠছিল। সেই বিক্ষোভ দমাতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় ধস্তাধস্তি ও আটকের ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান জনবিক্ষোভের আঁচ কাটাতেই এই চরম পদক্ষেপ নিল দিল্লি পুলিশ। তবে এই নিষেধাজ্ঞার জেরে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের মাত্রা কমার বদলে কয়েক গুণ বেড়ে গেল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।