বেঙ্গল সাফারি পার্কে একের পর এক রহস্যমৃত্যু! মাত্র ৩ মাসেই সিংহ-হরিণ সহ ৭ বিরল প্রাণীর নিথর দেহ, কী ঘটছে আড়ালে?

উত্তরবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র শিলিগুড়ির বেঙ্গল সাফারি পার্ক। কিন্তু এই জনপ্রিয় পর্যটনস্থলেই এবার নেমে এসেছে চরম অন্ধকার। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে একের পর এক ৭টি অত্যন্ত বিরল ও লুপ্তপ্রায় প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। পার্কের নজরদারি, পুষ্টিকর খাবার এবং জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পরিবেশপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রের খবর, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের মধ্যেই একের পর এক প্রাণহানি ঘটেছে:
-
১৬ জুলাই: প্রাণ হারায় একটি স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণ (Blackbuck)।
-
১৮ জুলাই: একই দিনে পরপর মারা যায় একটি পুরুষ সিংহ শাবক এবং ত্রিপুরা থেকে আনা একটি বিরল প্রজাতির স্ত্রী চশমা বাঁদর (Spectacled Langur)।
-
২২ জুলাই: খাঁচায় নিথর অবস্থায় মেলে একটি পুরুষ বন্য কুকুর (Dhole)।
-
২৭ জুলাই: মৃত্যু হয় একটি পুরুষ গ্রেট আর্গাস ফিজ্যান্ট (Argus Pheasant) পাখির।
-
আগস্টের ধাক্কা: মৃত্যুমিছিল থামেনি আগস্টেও। ৬ আগস্ট মারা যায় একটি বিশালাকার পুরুষ হিমালয়ান শকুন এবং ১৫ আগস্ট প্রাণ হারায় মণিপুরের রাজকীয় ঐতিহ্য তথা চরম বিলুপ্তপ্রায় একটি স্ত্রী স্যাঙ্গাই হরিণ (Sangai Deer)।
বন দপ্তর ও পার্ক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে প্রতিটি মৃত প্রাণীরই নিয়ম মেনে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু আসল উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে বিগত কয়েকমাসের সামগ্রিক পরিসংখ্যান। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন—প্রথম ছ’মাসেই এই পার্কে অন্তত ২০টি বন্যপ্রাণী প্রাণ হারিয়েছিল। তার ওপর গত তিন মাসে আরও ৭টি বিরল ও ‘শিডিউল-১’ তালিকাভুক্ত বন্যপ্রাণীর মৃত্যুতে চলতি বছরে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭-এ!
সিংহ, স্যাঙ্গাই হরিণ কিংবা চশমা বাঁদরের মতো অতি সংবেদনশীল বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষায় কোটি কোটি টাকার পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরেও কীভাবে এমন ধারাবাহিক মড়ক লাগল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠছে। খাঁচার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, সংক্রামক ব্যাধির সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হওয়া এবং নজরদারির অভাবেই এই মর্মান্তিক পরিণতি কি না, তা খতিয়ে দেখতে এবার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।