পুজোর ভিড়ে বয়স্কদের বের করছেন? এই মারাত্মক ভুলগুলি করলেই বিগড়োবে হার্ট-সুগার, বাঁচুন ৫ উপায়ে!

দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গাপুজো। আলোর রোশনাই, ঢাকের আওয়াজ আর মণ্ডপে মণ্ডপে মানুষের ঢল—সব মিলিয়ে উৎসবের মেজাজে ভাসছে গোটা বাংলা। ঘরের প্রবীণ মানুষটিও এই ক’টা দিন বাইরে বেরিয়ে মা দুর্গার মুখ দেখার অপেক্ষায় থাকেন। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ কিংবা হাঁটুর অস্টিওআর্থারাইটিসের মতো ক্রনিক সমস্যা থাকলে পুজোর ভিড়ে অসাবধানতা নিমেষেই বড় বিপদের কারণ হতে পারে। ভিড়, ধুলোবালি ও অতিরিক্ত হাঁটাচলার জেরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বহু গুণ। তাই উৎসবের দিনগুলিতে প্রবীণ সদস্যদের নিয়ে বেরোনোর আগে কিছু জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।
১. সময়ে খাওয়া ও পর্যাপ্ত জলপান
পুজোর দিনে বাইরে ঘোরাঘুরির চক্করে অনেক সময়ই খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় বদলে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বিপজ্জনক হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা সুগার কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে।
-
সঙ্গে সব সময় হালকা শুকনো খাবার, ফল বা ড্রাই ফ্রুটস রাখুন।
-
সুগার হঠাৎ নেমে গেলে সামাল দিতে লজেন্স বা গ্লুকোজ সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
-
রাস্তায় ঘেমে গিয়ে ডিহাইড্রেশন আটকাতে সঙ্গে পরিষ্কার পানীয় জলের বোতল রাখুন এবং একটু পরপর জল বা ডাবের জল খান।
২. ভিড় এড়ানো ও উপযুক্ত সময় নির্বাচন
সন্ধ্যা বা গভীর রাতের উপচে পড়া ভিড়ে বয়স্ক মানুষদের নিয়ে যাওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়।
-
পঞ্চমী বা ষষ্ঠীর ভোরে, কিংবা দুপুর বা বিকেলের শান্ত সময়ে মণ্ডপ পরিদর্শনের পরিকল্পনা করুন।
-
বড় মণ্ডপগুলিতে বয়স্কদের জন্য আলাদা ‘সিনিয়র সিটিজেন লেন’ বা হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা থাকে, সেই সুবিধাগুলি আগে থেকেই জেনে নিয়ে ব্যবহার করুন।
৩. ওষুধ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রস্তুতি
উৎসবের আনন্দে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে ভুলে যাওয়া সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ডেকে আনে।
-
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রক্তচাপ, হার্ট ও সুগারের ওষুধ নির্দিষ্ট সময়েই খেতে হবে।
-
একটি ছোট ব্যাগে সমস্ত প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইনহেলার (যদি শ্বাসকষ্ট থাকে) এবং চিকিৎসকের জরুরি ফোন নম্বর সঙ্গে রাখুন।
৪. হাঁটুর ব্যথা সামলাতে বিশ্রাম ও সঠিক জুতো
বয়স্কদের দীর্ঘক্ষণ একটানা দাঁড়িয়ে থাকা বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে প্যান্ডেল দর্শন করা এড়িয়ে চলা উচিত।
-
প্রতি ১৫-২০ মিনিট হাঁটার পর একটু বসে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
-
শক্ত বা হিলযুক্ত জুতোর বদলে আরামদায়ক কুশন দেওয়া অর্থোপেডিক হাঁটার জুতো ব্যবহার করুন, যাতে পায়ের পাতা ও হাঁটুতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
৫. বাইরের তেল-ঝাল খাবারে নিয়ন্ত্রণ
মণ্ডপের আশপাশে তেলেভাজা, ফাষ্টফুড বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই ধরনের খাবার প্রবীণদের হজমে গোলমাল, পেটের সংক্রমণ এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বাড়ির হালকা খাবার খেয়ে বেরোনোই সবচেয়ে নিরাপদ।
উৎসবের দিনগুলিতে একটু বাড়তি সতর্কতা ও পরিবারের যত্নই বয়স্কদের পুজোকে আনন্দদায়ক ও ঝুঁকিমুক্ত করে তুলতে পারে।