“এআই না জানলে টিসিএসে মিলবে না চাকরি?” টিসিএস-এর নতুন নীতিতে তোলপাড় আইটি দুনিয়া!

দেশের বৃহত্তম আইটি পরিষেবা সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) তাদের ভবিষ্যৎ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। সংস্থাটির স্পষ্ট বার্তা—আসন্ন নিয়োগগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদেরই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। টিসিএস কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে সংস্থাটিতে যত নতুন কর্মী যুক্ত হবেন, তাঁদের প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন আধুনিক প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল কর্মধারার সঙ্গে সুপরিচিত। কেবল তাই নয়, এই মোট নিয়োগের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কর্মী সরাসরি এআই-সম্পর্কিত বিশেষ কাজের জন্য বাছাই করা হবে।
টিসিএস-এর চিফ অপারেটিং অফিসার (COO) আরতি সুব্রামানিয়াম জানিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে সংস্থাটি প্রায় ৪,৫০০ জন নতুন কর্মী যুক্ত করেছে। এদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ সরাসরি এআই প্রজেক্টে যুক্ত রয়েছেন এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মী নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দিনেও এই একই মডেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।
অভিজ্ঞ কর্মচারীরা কি পিছিয়ে পড়বেন?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্তে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—নতুন প্রজন্মের তরুণ কর্মীরা কি তবে অভিজ্ঞদের চেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন? এই বিষয়ে টিসিএস-এর সিইও (CEO) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে. কৃতিবাসন বিষয়টিকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, সুবিধা তাঁরাই পাবেন যাঁরা নিজেদের আপগ্রেড করতে এবং নতুন কিছু শিখতে ইচ্ছুক।
তিনি বলেন, একজন মধ্যম-স্তরের ইঞ্জিনিয়ার যদি এআই বা নতুন প্রযুক্তি শিখে নেন, তবে তাঁর বহু বছরের অভিজ্ঞতা একটি বিরাট হাতিয়ার হয়ে উঠবে। কারণ তিনি কেবল প্রযুক্তিই বোঝেন না, প্রতিষ্ঠানের কাজের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তাও খুব ভালো বোঝেন। ফলে শেখার মানসিকতা থাকলে অভিজ্ঞ কর্মচারীরা তরুণদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে থাকবেন।
কোম্পানির মুনাফা ও এআই প্রকল্প
টিসিএস জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে তাদের অর্জিত মোট আয়ের প্রায় ১০ শতাংশ এসেছে সরাসরি এআই-সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজ ও প্রজেক্ট থেকে। সংস্থাটির আশা, ভবিষ্যতে এআই ভিত্তিক প্রকল্পের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে, কোম্পানির লাভজনকতা বা প্রফিট মার্জিনও তত বাড়বে।
কৃতিবাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দিনেও বিশ্বজুড়ে গ্রাহকদের জন্য আধুনিক এআই সমাধান তৈরিতে, এআই বিশেষজ্ঞ কর্মী গঠনে এবং নতুন প্রযুক্তির সংস্থায় বিনিয়োগ করতে পিছপা হবে না টিসিএস। ফলে আইটি শিল্পে টিকে থাকতে গেলে এখন এআই দক্ষতাই যে মূল চাবিকাঠি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।