ছাত্রীদের যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ! কংগ্রেস সাংসদ তথা জেএনইউ অধ্যাপকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের

জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ তথা জেএনইউ-এর অধ্যাপক অঙ্গমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে বসন্ত কুঞ্জ উত্তর থানায় এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় নারীদের অসম্মান এবং দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১১ জন ছাত্রী ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর অভিযোগ তোলার পরেই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই জাতীয় রাজনীতিতে এখন চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস সদর দফতরের বাইরে বিজেপির তুমুল বিক্ষোভ
জেএনইউ-এর এই ঘটনায় কংগ্রেস নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অভিযুক্ত কংগ্রেস সাংসদের অবিলম্বে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ এবং দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে দিল্লির ইন্দিরা ভবনে কংগ্রেস সদর দফতরের বাইরে ঝাঁঝালো বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বিজেপি মহিলা মোর্চার কর্মী ও নেত্রীরা। হাতে বিভিন্ন পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সরাসরি রাহুল গান্ধীর কাছে এর জবাবদিহিতা দাবি করেন। পাশাপাশি, কংগ্রেসের অন্দরে নারীদের সুরক্ষা ও সম্মান বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কড়া ভাষায় তোপ দাগেন বিজেপি নেতারা।
বিক্ষোভ চলাকালীন বিজেপি সাংসদ মেধা কুলকার্নি বিরোধী শিবিরের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস নেতারা মুখে নারী ক্ষমতায়নের বড় বড় কথা বললেও, দলের ভেতর এই ধরনের গুরুতর অসদাচরণের ঘটনা সামনে এলে তাঁরা সবসময় কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হন।
রাহুল-প্রিয়াঙ্কার নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির
এই কড়া রাজনৈতিক আবহে বিজেপি নেতৃত্ব রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের নীরবতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ‘লড়কি হুঁ, লড় সাকতি হুঁ’ (আমি মেয়ে, আমি লড়তে পারি) এবং পিতৃতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে রাহুল গান্ধীর বিভিন্ন বক্তৃতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে গেরুয়া শিবিরের দাবি, এই ধরনের কেলেঙ্কারিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের এই মৌনতা প্রমাণ করে যে নারী অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়ে তাঁদের সমস্ত বুলি সম্পূর্ণ ভণ্ডামিতে ভরা। একদিকে যখন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র সুপ্রিম কোর্টমুখী আন্দোলন ঘিরে জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক তখনই এই যৌন কেলেঙ্কারি কংগ্রেস শিবিরকে বড়সড় অস্বস্তির মুখে ফেলে দিয়েছে।