দুর্গাপুজোর মুখে শিয়ালদা ডিভিশনের বড় ধামাকা! কল্যাণী স্টেশনে চালু হলো এসি লাউঞ্জ ও ক্যাফেটেরিয়া

আসন্ন দুর্গাপুজো উপলক্ষে যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের এক দুর্দান্ত বিশেষ উপহার দিল পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশন। কল্যাণী স্টেশনের নবনির্মিত বিল্ডিংয়ে চালু হলো অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের যাত্রী-সুবিধাসম্পন্ন মডার্ন ওয়েটিং রুম, এক্সিকিউটিভ লাউঞ্জ এবং ক্যাফেটেরিয়া কমপ্লেক্স। দৈনন্দিন রেলযাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই ক্যাফেটেরিয়ার সুবিধা নিতে পারবেন। মূলত যাতায়াতের ক্ষেত্রে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, সর্বোচ্চ স্বাচ্ছন্দ্য এবং উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রাউন্ড ফ্লোরে কী কী থাকছে?

  • বিনামূল্যে যাত্রী প্রতীক্ষালয়: নতুন বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সাধারণ যাত্রীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি আধুনিক প্রতীক্ষালয় গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে রয়েছে আরামদায়ক স্টিলের আসন, আধুনিক পাখা, ঝকঝকে এলইডি আলো এবং বিনোদন ও প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ডিটিএইচ সংযোগসহ বড় স্ক্রিন।

  • ভিআইপি ও এক্সিকিউটিভ পেইড লাউঞ্জ: আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যপ্রিয় যাত্রীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এসি সমৃদ্ধ এক্সিকিউটিভ পেইড লাউঞ্জ। সেখানে থাকছে প্রিমিয়াম কুশনযুক্ত আসন ও আরামদায়ক রিক্লাইনার।

  • শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র: কোলে শিশু নিয়ে সফর করা মায়েদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে গ্রাউন্ড ফ্লোরেই তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ব্যক্তিগত পরিসরে স্তন্যপান করানোর বিশেষ স্থান।

ছাদ ও দোতলায় আন্তর্জাতিক মানের ক্যাফেটেরিয়া বিল্ডিংয়ের দোতালা ও ছাদ জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি চোখধাঁধানো ক্যাফেটেরিয়া। এখানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের জনপ্রিয় ফুড ব্র্যান্ড, ক্যাফে চেন, নামী রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টি ও বেকারির দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। মডিউলার কিচেন, সম্পূর্ণ এসি ব্যবস্থা এবং আধুনিক অন্দরসজ্জার পাশাপাশি এখানে পরিবেশবান্ধব জৈব প্যাকেজিং এবং খাদ্য সুরক্ষার কঠোর নিয়ম মেনে চলা হবে।

কী বললেন শিয়ালদা ডিভিশনের ডিআরএম? শিয়ালদা ডিভিশনের DRM রাজীব সাক্সেনা জানান, “স্টেশন চত্বরকে শুধু ট্রেন ধরার জায়গা না রেখে একটি আধুনিক যাতায়াত কেন্দ্রে রূপান্তর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। কল্যাণী স্টেশনের এই অত্যাধুনিক ক্যাফেটেরিয়া ও লাউঞ্জ কমপ্লেক্স যাত্রীদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জন্য আমাদের দুর্গাপুজোর বিশেষ উপহার। একই ছাদের নীচে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র, পৃথক শৌচাগার এবং উন্নতমানের খাবার ও পানীয়ের ব্যবস্থা করে আমরা প্রত্যেকের সফরকে আরও আনন্দদায়ক ও মর্যাদাপূর্ণ করে তুলতে চাই।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *