১৯৭২-এর চেয়েও ভয়াবহ সংকট! মহারাষ্ট্রে এল নিনোর তাণ্ডবে হাজার হাজার বিঘার বাগানে হাঁহাঙ্কার

জল সংকট, শুকিয়ে যাওয়া কুয়ো এবং জলাধারের বিপজ্জনক পতনে ভয়াবহ খরার মুখোমুখি মহারাষ্ট্র। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা আঙুর, আম, কলা ও বেদানা বাগান বাঁচাতেই এখন নাভিশ্বাস উঠছে চাষিদের। সংকট মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে জলের ট্যাঙ্কার এবং প্রয়োজনে বিশেষ ট্রেনে করে জল সরবরাহের জোর দাবি উঠেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, গাছ একবার শুকিয়ে গেলে নতুন করে চারা লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ফলন পেতে অন্তত আরও চার বছর অপেক্ষা করতে হবে।
এল নিনোর ধ্বংসাত্মক প্রভাব ও খরার চিত্র
প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রাকৃতিক ঘটনা—’এল নিনো’-র ভয়ঙ্কর প্রভাবেই মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিকেই ইতিমধ্যে খরাপ্রবণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের মোট ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রায় ৭৪ শতাংশ। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮.৮ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি থাকায় মারাঠওয়াড়া ও বিদর্ভের মতো অঞ্চলে কৃষিকাজ কার্যত ধ্বংসের মুখে। মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এবারের খরা ১৯৭২ সালের স্মৃতিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বিপদের মুখে ফলের বাগান ও উৎপাদন
দেশের অন্যতম প্রধান আঙুর উৎপাদন কেন্দ্র নাসিকে দীর্ঘ দুই মাস বৃষ্টি না থাকায় গাছ শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। মহারাষ্ট্র ‘গ্রেপ গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ সভাপতি কৈলাস ভোঁসলে জানান, জলাধারের জল ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকায় চাষিরা বিপাকে পড়েছেন। গাছ বাঁচাতে অবিলম্বে সরকারি ট্যাঙ্কার বা ট্রেনে জল সরবরাহের আর্জি জানানো হয়েছে।
শুধু আঙুর নয়; অমরাবতীর কমলালেবুর বাগানসহ আম, বেদানা ও কলাচাষিরাও চরম সংকটে। ফলের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় বহু চাষি বাধ্য হয়ে গাছ কেটে ফেলছেন। নাসিকের কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মোট উৎপাদনের মাত্র ৩০ শতাংশ হয়তো বাঁচানো সম্ভব হবে।
অর্থনীতি ও বাজারের ওপর প্রভাব
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে ১.৬৭ লক্ষ হেক্টর জমিতে আম, ১.৪১ লক্ষ হেক্টরে কলা, ১.১৯ লক্ষ হেক্টরে আঙুর এবং ১.০৭ লক্ষ হেক্টরে ডালিম চাষ হলেও এবার তার পরিমাণ তলানিতে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের অর্থনীতি ও সামগ্রিক ফলের বাজারে।
সরকারের পদক্ষেপ ও কৃষকদের দাবি
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকার কৃষিঋণ পুনর্গঠন, রাজস্ব ছাড় এবং বিদ্যুৎ খরচে কিছু শিথিলতার ঘোষণা করেছে। আর্থিক সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলও এলাকা পরিদর্শন করেছে। তবে চাষিদের বক্তব্য পরিষ্কার—ঋণ ছাড় বা ক্ষতিপূরণের চেয়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জল। এক মরশুমের ফসল নষ্ট হলে পর বছর ঘুরে দাঁড়ানো যায়, কিন্তু বহু বছরের পুরনো ফলের গাছ একবার মরে গেলে সেই ক্ষতি অপূরণীয়।