নবান্নের ঢিলছোড়া দূরত্বে যুবকের নিথর দেহ! চূড়ান্ত নিরাপত্তার বলয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড, এলাকায় চরম চাঞ্চল্য

রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ কেন্দ্র নবান্নের খুব কাছেই এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রবিবার তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল হাওড়ায়। যেখানে চব্বিশ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরা ও কড়া পুলিশি পাহারা থাকে, সেই অতি-সংবেদনশীল নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নবান্ন সংলগ্ন রাস্তায় এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচলতি মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিবপুর ও চ্যাটার্জিহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।
ঘটনার বিবরণ ও প্রাথমিক উদ্ধারকাজ
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে নবান্নের কাছাকাছি নির্জন রাস্তার ধারে এক যুবককে সংজ্ঞাহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা।
-
শরীরে আঘাতের চিহ্ন: যুবকের শরীরে আঘাতের দাগ রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।
-
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া: পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
-
পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা: নিহত যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তবে তাঁর কাছ থেকে কোনো পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় নথি পাওয়া যায়নি, ফলে তাঁর নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন
যে এলাকায় রাজ্য মন্ত্রিসভার শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা ওঠাবসা করেন এবং যা রাজ্যের অন্যতম কড়া নিরাপত্তা বলয় হিসেবে পরিচিত, সেখানে এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এটি খুন নাকি অন্য কোনো পথ দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশ। ঘটনাটিকে ঘিরে গোটা চত্বরে এখনও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।