পুজোয় ভাসবে তিলোত্তমা নাকি রোদের ঝলকানি? সপ্তমী থেকে দশমী নিয়ে হাওয়া অফিসের বিরাট পূর্বাভাস!

আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। মহালয়ার সুর বেজে উঠতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে দেবীপক্ষের সূচনা। শপিং থেকে শুরু করে প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনা—বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো ঘিরে এখন সাজো সাজো রব গোটা বাংলায়। কিন্তু এই উৎসবের আনন্দের মাঝেই ঘুরেফিরে আসছে একটাই বড় প্রশ্ন—পুজোর দিনগুলিতে কি অসুর হয়ে দেখা দেবে বৃষ্টি? বৃষ্টির কারণে কি ভেস্তে যাবে ঠাকুর দেখার সমস্ত পরিকল্পনা?
উৎসবপ্রেমী মানুষদের এই উদ্বেগের মাঝেই রাজ্যবাসীকে বড়সড় স্বস্তির বার্তা দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পুজোয় ভারী দুর্যোগের আশঙ্কা কার্যত উড়িয়ে দিয়ে হাওয়া অফিসের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পুজোর দিনগুলিতে টানা দুর্যোগ বা ভারী বর্ষণের কোনও সম্ভাবনা নেই।
পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা কতটা?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎসবের দিনগুলিতে আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকবে এবং মনোরম আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে স্থানীয় মেঘ ও জলীয় বাষ্পের কারণে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে:
-
টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই: পুজোর দিনগুলিতে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের সরাসরি চোখরাঙানি নেই। ফলে উৎসব মাটি করার মতো একটানা ভারী বৃষ্টি হবে না।
-
বিক্ষিপ্ত হালকা বৃষ্টি: উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বিকেলের দিকে বা সন্ধ্যার শুরুতে ক্ষণিকের জন্য হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
-
কলকাতা ও শহরতলি: তিলোত্তমা এবং সংলগ্ন জেলাগুলিতে রোদঝলমলে আবহাওয়াই বেশি দেখা যাবে। দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টি হলেও তা পুজোর আমেজে কোনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার চিত্র
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বাতাসে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা থাকলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া মনোরম থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে—যেমন দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে—হালকা মেঘ ও সাময়িক বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও পুজোর স্বাভাবিক জনজীবনে তার তেমন কোনও মারাত্মক প্রভাব পড়বে না।
হাওয়া অফিসের এই ইতিবাচক পূর্বাভাস নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি ফিরিয়েছে আট থেকে আশির মুখে। বৃষ্টির কারণে ঠাকুর দেখার আনন্দ পুরোপুরি মাটি হবে না—এমন খবরে নতুন করে প্যান্ডেল হপিংয়ের পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন আমজনতা।