“পশ্চিমবঙ্গের চেহারা পুরোপুরি বদলেছে!” নবি মুম্বইয়ের তরুণ শিল্পপতিদের নিয়ে কলকাতায় বোমা ফাটালেন শমীক

পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের হাওয়া ফের নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। বাণিজ্য নগরী মুম্বইয়ের নজর এবার সোজা বাংলার বুকে। শিকড়ের টানে এবং রাজ্যের অনুকূল পরিবেশের খোঁজে এবার বাংলায় বড়সড় বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন নবি মুম্বইয়ের তরুণ শিল্পপতি ও স্টার্ট-আপ উদ্যোগপতিরা।
রবিবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা স্পষ্ট জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রবীণ নেতা তাপস রায়। নবি মুম্বইয়ের তরুণ শিল্পপতিদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর তাঁদের দাবি—বাংলায় শিল্প ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে।
শিকড়ের টানেই বাংলায় ফিরছেন শিল্পপতিরা
সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, নবি মুম্বইয়ের যে সমস্ত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বাংলায় লগ্নি করতে এগিয়ে এসেছে, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নাড়ির টান। অতীতে এ রাজ্যে তাঁদের পারিবারিক বা নিজস্ব ব্যবসা থাকলেও নানা কারণে তা থমকে গিয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন:
“পশ্চিমবঙ্গের চেহারা এখন অনেকটাই বদলেছে। সেই পরিবর্তনের ধারা দেখেই তরুণ উদ্যোগপতিরা আবার এখানে নতুন করে লগ্নি করতে চাইছেন। শুধু নিজেরা ফেরাই নয়, বাণিজ্য নগরীর অন্যান্য বড় শিল্পপতিদেরও এই রাজ্যে টাকা বিনিয়োগ করার জন্য উৎসাহিত করছেন তাঁরা।”
MSME ও কর্মসংস্থানে বিশেষ জোর
আলোচনায় উঠে এসেছে রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, বড় কারখানার পাশাপাশি এমএসএমই সেক্টরকে যদি আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা যায়, তবে রাতারাতি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে রাতারাতি সব বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলেও স্মরণ করিয়ে দেন শমীক। তিনি স্পষ্ট জানান, এই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে।
কালীপুজোর পরই মুম্বই সফর
বাংলায় বিনিয়োগের এই সুযোগকে বাস্তবে রূপ দিতে নেওয়া হচ্ছে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। জানা গিয়েছে, দীপাবলি বা কালীপুজো মিটলেই সংশ্লিষ্ট মহলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিরা মুম্বই সফরে যাবেন। সেখানে শিল্পপতিদের সঙ্গে আরও এক দফা উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুম্বইয়ের শিল্পমহল যদি সত্যিই ফের বাংলার দিকে মুখ ফেরায়, তবে তা হবে এ রাজ্যের বাণিজ্যিক মানচিত্রে এক অভাবনীয় মোড়। নতুন কর্মসংস্থান আর শিল্পের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ এখন কতটা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।