পুরনো মামলার ফাঁসেই বন্দি নির্বাচন কমিশনার? প্রশান্ত ভূষণের এক দাবিতে কেঁপে উঠল মোদী সরকার!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে এবার জাতীয় রাজনীতি ও আইনি মহলে আছড়ে পড়ল এক বিরাট ধাক্কা। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে চলা উত্তাল বিতর্কের মাঝেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি তুললেন সুপ্রিম কোর্টের বরিষ্ঠ ও প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ। তাঁর অভিযোগ—একটি পুরনো অমীমাংসিত মামলার ফাঁসে আটকে রেখেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে মোদী সরকার।
এখানেই শেষ নয়, দেশের সাংবিধানিক সংস্থা ও শীর্ষ আদালতের একাংশের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক তরজার বারুদ উস্কে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবী।
“কেন সরকারের কথায় চলতে বাধ্য হচ্ছেন কমিশনার?”
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমারের অতীতের কর্মজীবন এবং একটি পুরনো অভিযোগের ফাইল এখনও বন্ধ হয়নি। সেই মামলার আইনি নিষ্পত্তি না করে সেটিকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আর সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের সুবিধামতো পরিচালিত করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
প্রশান্ত ভূষণের কথায়:
“যখন কোনও শীর্ষ সাংবিধানিক কর্তার বিরুদ্ধে পুরনো মামলার খাঁড়া ঝুলিয়ে রাখা হয়, তখন তাঁর পক্ষে সম্পূর্ণ স্বাধীন বা নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁকে ব্ল্যাকমেলিংয়ের জায়গায় রেখেছে, যাতে তিনি তাদের ইচ্ছানুযায়ী পদক্ষেপ করতে বাধ্য হন।”
বিচারপতিদের অবস্থান নিয়েও কড়া পর্যবেক্ষণ
কেবল নির্বাচন কমিশন বা কার্যনির্বাহী বিভাগ নয়, বিচারব্যবস্থার একাংশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রশান্ত ভূষণ। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদাধিকারী বা বিচারপতির অবসরের পর রাজ্যপাল বা রাজ্যসভার সাংসদ পদ পাওয়ার উদাহরণ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের প্রলোভন ও রাজনৈতিক সমীকরণ বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও জনবিশ্বাসের ভিত্তিকেই নড়বড়ে করে তুলছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বাড়ছে সংঘাতের ঝাঁঝ
ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ উদ্যোগ (SIR) এবং বিরোধীদের একাধিক আন্দোলনের আবহে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি দেশজুড়ে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। দিল্লির যন্তরমন্তর থেকে শুরু করে কলকাতার রাজপথ—কমিশনের বিরুদ্ধে যখন বিরোধীরা ‘আজাদি’ ধ্বনি তুলছেন, ঠিক সেই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন শীর্ষ আইনজীবীর এমন প্রত্যক্ষ অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল।
কেন্দ্রীয় শাসকদল বা নির্বাচন কমিশনের তরফে প্রশান্ত ভূষণের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, শীর্ষ আদালতের এই আইনজীবীর বিস্ফোরক মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের জন্ম দিল।