পুরুষতান্ত্রিক পেশার চেনা ছক ভাঙলেন সুন্দরবনের মা-মেয়ে! আইনের ছাত্রীর তুলিতে সেজে উঠছে দুর্গা প্রতিমা

অভাবের সংসারে দুই দশভুজা! মা-মেয়ের হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পেশার চেনা গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাস গড়লেন সুন্দরবনের দুই লড়াকু নারী। সমাজের চিরাচরিত নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মা ও মেয়ের অনন্য যুগলবন্দিতে রূপ পাচ্ছে দণ্ডমুণ্ডেশ্বরী। পেটের টানে প্রতিমা তৈরির কঠিন পেশাকে আপন করে নিয়ে তাঁরা প্রমাণ করে দিয়েছেন—নারীর হাত শুধু সংসার সামলাতেই নয়, মহাশক্তিকে রূপ দিতেও সমানভাবে পটু।

সুন্দরবনের প্রত্যন্ত সন্দেশখালি এলাকার বাসিন্দা দিপালী সর্দার প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে এই পেশা তাঁর কাছে শখ ছিল না, বরং চরম অভাবই তাঁকে এই অনিশ্চিত রাস্তায় টেনে এনেছিল। পরিবারের নিজস্ব জমিজমা না থাকায় এবং জীবিকার তাগিদে পুরুষদের আধিপত্য থাকা এই পেশাকেই বেছে নেন তিনি। মাটি দিয়ে দেবীর অবয়ব গড়া থেকে শুরু করে নিখুঁত রূপ দেওয়া—সবটাই তিনি শিখেছেন একা হাতে।

তবে এই কঠিন লড়াইয়ে দিপালী একা নন, তাঁর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তাঁর একমাত্র মেয়ে লাকি সর্দার। তিনি আবার আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন। একদিকে কলেজের পড়াশোনা, অন্যদিকে মায়ের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ—দুটোই সমান দক্ষতায় সামলাচ্ছেন লাকি। মাটি মাখা হাত থেকে শুরু করে রং-তুলির নিখুঁত আঁচড়, সবেতেই মায়ের যোগ্য সহচর হয়ে উঠেছে সে।

চলতি বছর ক্যানিংয়ের মিত্র মহল ক্লাবের দুর্গাপ্রতিমা তৈরির মূল দায়িত্ব এসেছে এই মা-মেয়ের জুটির কাঁধে। শুধু একটি ক্লাব নয়, এবছর মোট ১০টি প্রতিমা তৈরির বরাত পেয়েছেন তাঁরা। মহালয়ার পবিত্র তিথিতে এক মায়ের হাতেই সম্পন্ন হয়েছে আরেক জগৎজননী মায়ের চক্ষুদান পর্ব। সুন্দরবনের এই দুই নারীর অদম্য জেদ ও শিল্পকলাকে কুর্নিশ জানিয়েছে স্থানীয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে আপামর এলাকাবাসী। অভাবের সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে চলা এই মা-মেয়ের সাফল্যের গল্প এখন খবরের শিরোনামে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *