অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো চলবে না! রাষ্ট্রসংঘের আপত্তি সরাসরি উড়িয়ে দিল ভারত

দিল্লির বিক্ষোভ ও গণগ্রেফতার নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের উদ্বেগ সরাসরি খারিজ করল ভারত, কড়া বার্তা বিদেশ মন্ত্রকের
রাজধানী দিল্লিতে সিজেপি-র (CJP) বিক্ষোভ এবং আন্দোলনকারীদের গণগ্রেফতারের ঘটনা ঘিরে বিশ্বমঞ্চে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। এই পরিস্থিতির মধ্যে দিল্লির পদক্ষেপ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কমিশনের (OHCHR) প্রকাশ করা উদ্বেগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ভারত। রবিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশের আইন মেনেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদক্ষেপ করেছে এবং এই ধরনের মন্তব্য ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ।
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনীর দুর্নীতি ও বিরোধের জেরে সিজেপি-র ব্যানারে একটি বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। সেই বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন অরবিন্দ কেজরিওয়াল সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতা, ছাত্রনেতা, আইনজীবী এবং সংবাদকর্মীদের ব্যাপক হারে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এই গণগ্রেফতারের পরেই সরব হয় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর। আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি বিক্ষোভ দমনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা।
রাষ্ট্রসংঘের এই বার্তার পরই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয় নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার দিয়েছে, যা দেশের স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত সংবাদমাধ্যম সুরক্ষিত রাখে। তবে এর পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার শর্তটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অভ্যন্তরীণ শাসন ও আইন বজায় রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই কাজ করেছে বলে জানানো হয়।
পাশাপাশি, রাষ্ট্রসংঘের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রক অভিযোগ তুলেছে যে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে নীরব থাকা সত্ত্বেও ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই ধরনের পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে। দেশের যেকোনো নাগরিকের অভিযোগ জানানোর জন্য স্বাধীন বিচারব্যবস্থা খোলা রয়েছে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছে কেন্দ্র।