বিক্ষোভের ছবি ইন্টারনেটে ছড়াতেই ভয়ঙ্কর মোড়! প্রকাশ্যে এসে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি কলার চেপে ধরা কন্সটেবলের

রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক উত্তপ্ত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা এবং দিল্লি পুলিশের এক মহিলা কনস্টেবলের সংঘাতের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে নেটপাড়ায়। ভাইরাল হওয়া সেই বিভ্রান্তিকর ছবির নেপথ্যের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে এবার সোচ্চার হলেন কর্তব্যরত পুলিশকর্মী নীতু। বাইরের দিল্লির নাংলোই থানায় কর্মরত এই কনস্টেবল বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন যে, ব্যারিকেড ভেঙে এগোনো আটকাতে গিয়েই চরম হিংস্রতার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
কনস্টেবল নীতু জানিয়েছেন, বিক্ষোভের সময় ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা কড়া নিরাপত্তা বলয় ও ব্যারিকেড অতিক্রম করার চেষ্টা করছিলেন। তাঁকে নিরাপত্তার স্বার্থে নিচে নামানোর চেষ্টা করতেই ওই ছাত্রনেত্রী তাঁর ওপর চরম আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, নেহা বোরা সরাসরি তাঁর কলার চেপে ধরেন, হিংস্রভাবে নখ দিয়ে শরীরে আঁচড়ে দেন এবং জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করে তাঁর সরকারি উর্দির অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। এই ধস্তাধস্তির জেরে তাঁর হাত ও পায়ে বেশ আঘাত লাগে, যার ফলে পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয় প্রশাসনকে।
তবে এখানেই শেষ নয়; ওই অনভিপ্রেত ঘটনার কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তাঁকে ডিজিটাল ট্রোলিং ও মানসিকভাবে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে ক্ষোভ উগরে দেন কনস্টেবল নীতু। ছবিতে নেহা বোরাকে তাঁর কলার ধরে থাকতে দেখা গেলেও, নেটিজেনদের একাংশ উল্টে পুলিশকর্মীকেই নানা কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ ও হুমকি বার্তা পাঠাচ্ছেন। এই ঘটনায় চরম হতাশা প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলে পুলিশকর্মী নীতু বলেন, “বিক্ষোভকারীরা মহিলা বলে সহানুভূতি পেলেও, ডিউটিতে থাকা আমরা কি মহিলা নই?” তাঁর এই মানবিক ও বিস্ফোরক বয়ানের পর দিল্লি বিক্ষোভের এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি নিয়ে শাসক-বিরোধী ও আমজনতার মধ্যে এক নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে।