ট্রেন-মেট্রো বন্ধ, অঘোষিত জরুরি অবস্থা? দিল্লির থমথমে পরিস্থিতিতে মোদী সরকারকে চাঁচাছোলা আক্রমণ কংগ্রেসের

দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং তাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি সংঘাতের পথ বেছে নিল কংগ্রেস। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অশোক গেহলট দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক তরজা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। বিক্ষোভ দমাতে একাধিক ট্রেন বাতিল এবং অন্তত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, অহেতুক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হয়েছে।

বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীনের ‘বিরোধীদের দেখে নেওয়া ও কঠোর হাতে দমনের’ হুঁশিয়ারির কড়া সমালোচনা করেছেন গেহলট। তিনি পরিষ্কার জানান, একটি সুস্থ গণতন্ত্রে বিরোধী দলকে এই ধরনের হুমকিমূলক ভাষায় কথা বলা মোটেই শোভা পায় না। শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত ছাড়া বিজেপি সভাপতি এমন হুঁশিয়ারি দিতে পারেন না দাবি করে তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক অধিকার ও যুবকদের ন্যায্য আন্দোলনকে রুখতে নিরাপত্তা বাহিনীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

একই সঙ্গে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের দাবিরও ধারালো জবাব দিয়েছেন অশোক গেহলট। তিনি বলেন, সম্বিত পাত্রের কথা এবং মানসিকতার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অবস্থান স্পষ্ট ছিল এবং তিনি প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি ও প্রমাণ জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতারা অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক তৈরি করে মূল বিষয় থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছেন। প্রতি বছর ২ কোটি চাকরি প্রদান ও কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার যে প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিয়েছিল, আজ সেগুলির জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।

অন্যদিকে, মহারাষ্ট্র কংগ্রেস প্রধান নানা পাটোলেও দিল্লির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে দেশে এক ধরনের অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে বলেই গোটা শহরজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে দমনপীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *