মাঝরাতে বুক ফেটে রক্ত জমেছিল! প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বড় তথ্য সামনে

প্রবীণ ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়েছে। গোয়া মেডিকেল কলেজের (জিএমসি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৭৫ বছর বয়সী নানা পাটেকরের মৃত্যু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ ও চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নানা পাটেকর দীর্ঘদিন ধরে করোনারি আর্টারি ডিজিজ (সিএডি)-এ ভুগছিলেন। এই রোগের কারণে তাঁর হৃদ্‌পিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীতে রক্ত জমাট বেঁধে যায়, যার ফলে হৃদ্‌পিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরেই তিনি তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্যানেল চিকিৎসকরা ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

পুলিশি তদন্তে নানা পাটেকরের মৃত্যুর আগের রাতের শেষ কয়েক ঘণ্টার এক রোমহর্ষক টাইমলাইন উন্মোচিত হয়েছে। জানা গেছে, ঘটনার রাতে রাত আড়াইটার দিকে নিজের ডোনা পাওলার অ্যাপার্টমেন্টে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা ও অসুস্থতা অনুভব করেন তিনি। সেই সময় তিনি তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আমেয় নায়েককে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পাঠিয়ে জানান যে তাঁর শরীর খুব খারাপ লাগছে। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় আমেয় নায়েক প্রায় এক ঘণ্টা পর বার্তাটি দেখতে পান।

বার্তাটি দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নানার অ্যাপার্টমেন্টে ছুটে যান এবং দরজা খোলার পর তাঁকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। এরপর কেয়ারটেকারের সহায়তায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে এবং ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *