এক ধাক্কায় ১৯টি নয়, একেবারে ১৯৬টি পার্কিং স্পট কিনলেন মহিলা! দ্বিগুণ ভাড়ায় গাড়ি রেখে যা হচ্ছে…

কাজের বাজারে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে কিছু ব্যতিক্রমী ও বুদ্ধিদীপ্ত বিনিয়োগ যে কীভাবে ভাগ্য বদলে দিতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চিনের এক সাহসী নারী। এক লপ্তে একসঙ্গে ১৯৬টি পার্কিং স্পেস বা গাড়ি রাখার জায়গা কিনে তিনি এখন তাক লাগিয়ে দিয়েছেন গোটা বিশ্বকে। শুধু তাই নয়, নিজের বিচক্ষণ বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে ওই বিপুল পরিমাণ পার্কিং লট থেকে বর্তমানে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়ায় আয় করছেন তিনি, যা রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজের কেরিয়ার ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে সঞ্চয় করছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু প্রচলিত শেয়ার বাজার বা প্রথাগত ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে তিনি রিয়েল এস্টেটের একটি অন্য দিক বেছে নেন। শহরাঞ্চলে গাড়ির সংখ্যা হু হু করে বাড়লেও পার্কিংয়ের জায়গা নিয়ে চালকদের প্রতিনিয়ত যে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়, সেই বাস্তব সমস্যাটিকে সুযোগে রূপ দেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি বিশাল আবাসন ও বাণিজ্যিক এলাকার মোট ১৯৬টি পার্কিং স্পেস নিজের নামে কিনে নেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে এতগুলো পার্কিং লট একসঙ্গে কেনা বেশ ঝুকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল হলেও, তাঁর সেই জুয়া শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে সফল হয়। বর্তমানে ব্যস্ততম ওই অঞ্চলে প্রতিদিনের পার্কিংয়ের তীব্র চাহিদার সুযোগ নিয়ে ওই মহিলা গাড়িচালকদের কাছে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়ায় স্পেসগুলি লিজ দিচ্ছেন। এর ফলে মাসিক ভিত্তিতে তাঁর ঘরে আসছে বিপুল পরিমাণ নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ ইনকাম। পেশাগত জীবনে এই অভিনব ও দূরদর্শী চিন্তাভাবনার জেরে এখন তিনি রীতিমতো সফল উদ্যোক্তা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর এই সাফল্যের গল্প ছড়িয়ে পড়তেই তা নেটদুনিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রশংসিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুগের শহুরে সমস্যার সুচারু সমাধান করে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায়, এটি তারই এক অনন্য নিদর্শন।