‘নির্বাচনের ফল না মেনে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে!’ বিরোধী জোটকে ধুয়ে দিলেন নীতিন নবীন

রাজধানীর যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে জড়িয়েছে শাসক ও বিরোধী শিবির। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং আম আদমি পার্টি (AAP) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে যুক্ত বিরোধী গোষ্ঠীগুলি রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এবং বিদেশি শক্তির ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে বলে শনিবার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)।
‘বিদেশি শক্তির মদতে দেশ অস্থির করার ষড়যন্ত্র’:
দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক ও গুরুতর’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলি জনগণের দেওয়া নির্বাচনী রায় মেনে নিতে অস্বীকার করছে। উল্টে রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে। বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও ভারত যখন আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে, তখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার এই অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। তবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এই কথিত বিদেশি শক্তিগুলির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
কেন এই বিক্ষোভের ডাক?
ভোটের তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলির এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার পরেই বিজেপি এই আক্রমণ শানায়।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকার বিশেষ তীব্র সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করেছে। এর ফলে বহু যোগ্য ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে এই রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে যে, ভোটার তালিকা স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত করতেই এই সংশোধন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। এর আগে আপ (AAP) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালও জনগণকে এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মূলত ‘ভোট চোরি’র মতো গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন ও বিরোধীদের এই দ্বন্দ্ব এখন চরমে পৌঁছেছে।
সিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিজেপির:
নীতিন নবীনের পাশাপাশি বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদবসহ অন্যান্য বিজেপি নেতারাও সিজেপি-র রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এটি একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয় এবং বিরোধী নেতাদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই এই মঞ্চকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন ও বিজেপির পালটা চক্রান্তের অভিযোগে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ এখন তুঙ্গে।