দিল্লিতে অন্তত ৩৫,০০০ পুলিশ এবং আধাসেনা! CJP কে রুখতে ‘অভূতপূর্ব’ কড়াকড়ি

সাম্প্রতিক অতীতে রাজধানীর রাজপথে এমন দৃশ্য দেখেনি দেশবাসী। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র পূর্বঘোষিত যন্তর মন্তর অভিযান রুখতে কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে দিল্লি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে গোটা রাজধানীজুড়ে জারি হয়েছে অঘোষিত জরুরি অবস্থার মতো কড়াকড়ি। আন্দোলন দমাতে শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে নির্বিচারে গণগ্রেফতার।
নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রাজধানী দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবারে মাঠে নামানো হয়েছে অন্তত ৩৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী। এর মধ্যে রয়েছে ২২৫ কোম্পানি আধা সেনা এবং ২৩ হাজার সশস্ত্র দিল্লি পুলিশ জওয়ান। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে—যেমন রোহিণী, ছত্রশাল স্টেডিয়াম ও রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে অন্তত ১০টি বিশাল ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। যন্তর মন্তরের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর চলছে কড়া নজরদারি।
পরিবহন ব্যবস্থায় নজিরবিহীন কোপ বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে ঢোকা আটকাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করেছে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে রেখে দিল্লির প্রায় ৪৫টি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। শহরের ৩৫টি প্রধান রাস্তায় বসানো হয়েছে সশস্ত্র পুলিশি ব্যারিকেড। বন্ধ রাখা হয়েছে কনট প্লেস, ইন্ডিয়া গেট চত্বর এবং একাধিক স্কুল-কলেজ। শুধু তাই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিগামী প্রায় ৩০০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এমনকি হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে যাওয়া দূরপাল্লার রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনও এই বাতিল তালিকার বাইরে নেই।
কেন্দ্রের কঠোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। দিল্লির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সমন্বয় বজায় রেখে যাতে কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীরা রাজধানী পর্যন্ত পৌঁছতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে সমস্ত প্রশাসনকে। অন্যদিকে, আন্দোলন দমাতে খোদ মহিলা পুলিশ বাহিনীকে সামনে এনে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। শুক্রবার রাতে প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করার পর, শনিবার সকালেও নতুন করে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে পাকড়াও করেছে পুলিশ। সিজেপি শীর্ষনেতারা আটক হলেও রাজধানীর এই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক নাটক এই মুহূর্তে চরম আকার ধারণ করেছে।