দিল্লি অভিযানে চরম বাধা! ট্রেন বাতিলের জেরে ১ লক্ষ যাত্রীকে আটকাতে মরিয়া রেল, কী বলছে প্রশাসন?

‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’-র (CJP) পূর্বঘোষিত দিল্লি প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে নজিরবিহীন কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আন্দোলনের জেরে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ভারতীয় রেল এক ধাক্কায় ৩৮টিরও বেশি দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার ঘোষণা করেছে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ মহলের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রেন বাতিলের এই আকস্মিক পদক্ষেপে আগামী ১০ই অক্টোবর অন্তত ১ লক্ষ যাত্রীর নয়াদিল্লিতে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং রাজস্থান থেকেই সবথেকে বেশি সংখ্যক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।

কোন সময় থেকে কার্যকর এই নির্দেশ?
রেল কর্তৃপক্ষের জারি করা বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ১০ই অক্টোবর ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হযরত নিজামুদ্দিন রেল স্টেশনে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, এমন ট্রেনগুলিই মূলত বাতিল করা হয়েছে। রেলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই গণবার্তা (Bulk SMS) পাঠিয়ে সমস্ত প্রভাবিত যাত্রীদের এই বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।

উত্তর রেলওয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নয়াদিল্লির উদ্দেশে ছাড়ার কথা ছিল এমন ট্রেনগুলি বাতিল করা হয়েছে। তবে যে ট্রেনগুলি ইতিমধ্যেই অনেক দূর থেকে যাত্রা শুরু করে দিয়েছে এবং যেগুলি দূরপাল্লার, সেগুলিকে সম্পূর্ণ বাতিল করা হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, গুয়াহাটি থেকে ছেড়ে আসা ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস কিংবা কেরালা ও তামিলনাড়ু থেকে আসা ট্রেনগুলি যথারীতি নির্দিষ্ট সময়েই দিল্লি গিয়ে পৌঁছাবে।

১ লক্ষ যাত্রীকে আটকাতে রেলের প্রস্তুতি:
রেলওয়ে সূত্রে খবর, সাধারণত একটি ট্রেনে অন্তত ২০টি বগি থাকে এবং গড়ে প্রতিটি ট্রেনে ১৪০০ থেকে ২০০০ জন যাত্রী যাতায়াত করেন। শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হযরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে ১৭০টিরও বেশি ট্রেন এসে পৌঁছানোর কথা ছিল। যার মধ্যে ইতিমধ্যেই অন্তত ২৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং এই সংখ্যাটি ৫০ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেল কর্মকর্তাদের বক্তব্য, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত শুধু নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আসা ট্রেনগুলোকেই বাতিলের তালিকায় রাখা হয়েছে। যেসব ট্রেন ইতিমধ্যে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছে, সেগুলোকে গাজিয়াবাদ ও সাহিবাবাদ স্টেশনেই থামিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধুমাত্র গুটিকয়েক ট্রেনকে শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

সিজেপির হুঁশিয়ারি:
সার্বিক এই ট্রেন বাতিলের খবরের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জনতা পার্টি। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কড়া বিবৃতি দিয়ে লিখেছেন, “আর কতদিন এভাবে ট্রেন বাতিল করে মানুষকে আটকানো যাবে? সাধারণ মানুষকে দিল্লিতে আসবার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।”

সৌরভের মতে, কোভিড-১৯ মহামারীর কঠোর লকডাউনের সময়েও যখন সমস্ত ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল, তখন মানুষ দমে না গিয়ে পায়ে হেঁটে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছেছিল। এবারও সরকার ও প্রশাসনের সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে মানুষ প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে হেঁটেই রাজধানীতে এসে পৌঁছাবে এবং তাদের এই আন্দোলন কোনোভাবেই থামানো যাবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *