জল জমে থাকা গর্তে অটোর চাকা পড়তেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা! রড গেঁথে গিয়ে বাকশক্তি হারালেন দিনমজুর যুবক

নবাবদের শহর লখনউয়ের অন্যতম অভিজাত এলাকা ফিনিক্স প্লাজা মলের ঠিক সামনে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক দুর্ঘটনা। গত দুদিন ধরে রাস্তায় জমে থাকা জল এবং একটি গভীর গর্তের কারণে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হয়েছেন এক দিনমজুর যুবক। অটোর চাকা জলের নিচে থাকা গর্তে পড়ার তীব্র ঝাঁকুনিতে অটোতে বসা ওই শ্রমিকের মাথা সজোরে গিয়ে লাগে অটোর ছাদে এবং তাঁর ঘাড় সরাসরি সামনে রাখা একটি লোহার রডে আটকে যায়। ধাক্কাটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে যুবকটি সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান এবং তাঁর বাকশক্তি পুরোপুরি চলে যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় ঘটনাস্থলে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয় এবং তাঁর স্ত্রী চরম কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
জানা গিয়েছে, ওই দিনমজুর যুবক তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে লখনউয়ের গোমতি নগর এলাকায় থাকেন এবং দুজনেই দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার দিন গভীর রাতে কাজ শেষ করে তাঁরা অটোরিকশায় চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু ফিনিক্স প্লাজার সামনের রাস্তায় গত দুদিন ধরে তীব্র জল জমে ছিল। রাস্তার অতিরিক্ত জলের কারণে অটোচালক জলের নিচে লুকিয়ে থাকা গভীর গর্তটি দেখতে পাননি। হঠাৎ অটোর চাকা সেই গভীর গর্তে পড়ে যাওয়ায় অটোটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
১২ ঘণ্টা পর ফেরে জ্ঞান, ক্ষীণ স্বরে কথা বলার চেষ্টা:
দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আশেপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় ফরিদ নামের এক স্থানীয় যুবক সাহসিকতার সঙ্গে সাহায্যের জন্য দৌড়ে আসেন। তিনি আহত লোকটিকে অনেকক্ষণ ধরে ঝাঁকান এবং মুখে জল ছিটিয়ে তাঁর জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। এরপর যুবকটির জ্ঞান ফিরলেও, তিনি কথা বলার চেষ্টা করলে মুখ দিয়ে কোনো শব্দ বের হচ্ছিল না। দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে ফরিদ একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবস্থা করে আহত শ্রমিককে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ১২ ঘণ্টা টানা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে এবং তিনি এখন অত্যন্ত ক্ষীণ স্বরে কথা বলতে পারছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন:
লখনউয়ের সবচেয়ে ভিআইপি ও অভিজাত মল হিসেবে বিবেচিত ফিনিক্স প্লাজা মলের ঠিক সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটায় পৌরসভার নিকাশি ব্যবস্থা ও প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। মাত্র দুদিন জল জমে থাকা এবং রাস্তার বিপজ্জনক গর্তের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের উন্নত পরিকাঠামোর সমস্ত দাবি কার্যত ফাঁকা আওয়াজ বলেই প্রমাণিত হয়েছে। ইতিমধ্যে এই মর্মান্তিক ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে সাধারণ মানুষ রাস্তার বেহাল দশা এবং প্রশাসনের চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।