অতিরিক্ত রক্তপাত ও তলপেটে তীব্র যন্ত্রণা? পিরিয়ডের এই মারাত্মক লক্ষণগুলি ভুলেও উপেক্ষা করবেন না!

অতিরিক্ত রক্তপাত এবং তীব্র পিরিয়ডের ব্যথা যেকোনো নারীর দৈনন্দিন রুটিন, কাজের দিন বা ভ্রমণের পরিকল্পনাকে ওলোটপালট করে দিতে পারে। মাসিক চক্রের সময় সামান্য অস্বস্তি বা রক্তপাত স্বাভাবিক হলেও, লক্ষণগুলি যদি অস্বাভাবিকভাবে তীব্র হয় বা স্বাভাবিক চক্রের থেকে আলাদা হয়, তবে তা কোনো বড় শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে কর্মব্যস্ত দিন বা দীর্ঘ যাত্রার সময়ে এই সমস্যাগুলি কীভাবে সামাল দেবেন এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিশিষ্ট গাইনোকোলজিস্ট ডা. মেঘনা রেড্ডি জেটি এবং ডা. প্রতিমা এ।

কখন অতিরিক্ত রক্তপাত চিকিৎসকের নজরে আনা উচিত?
যদি কোনো নারী হঠাৎ করে খুব বেশি রক্তপাতের মুখোমুখি হন, তবে তা চিহ্নিত করা জরুরি। পিরিয়ডের সময় যদি প্রতি ঘণ্টা পরপর স্যানিটারি প্যাড বা ট্যাম্পন ভিজে যায়, ডবল প্রোটেকশনের প্রয়োজন পড়ে অথবা রক্তপাত ৭ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে তাকে সাধারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। কাজের জায়গায় বা ভ্রমণের সময় এমনটা ঘটলে অবিলম্বে ভারী কাজ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিরিয়ডের সময় ছোট আকারের ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বাঁধা স্বাভাবিক। কিন্তু যদি ঘনঘন এবং ২.৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় আকারের বড় বড় ক্লট পড়তে থাকে, সঙ্গে প্রবল ব্যথা ও ক্লান্তি থাকে, তবে তা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এই অতিরিক্ত ক্লটিং মূলত ফাইব্রয়েড, অ্যাডেনোমায়োসিস, হরমোনের সমস্যা বা অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাতের লক্ষণ হতে পারে।

পেইনকিলারের ওপর অন্ধ ভরসা কেন বিপজ্জনক?
কাজের সুবিধা বা ভ্রমণের জন্য শুধুমাত্র ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। যদি নিয়মিত ভারী ক্র্যাম্প হয়, তবে গরম সেঁক, পর্যাপ্ত জল খাওয়া এবং সঠিক বিশ্রাম সাহায্য করতে পারে। তবে শুধু কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ঘনঘন ওষুধ খাওয়া কখনোই স্বাভাবিক পিরিয়ডের লক্ষণ নয়। প্রবল ব্যথা, পিরিয়ডের মাঝখানে ব্যথা বা সহবাসের সময় ব্যথা হলে অবশ্যই গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

যে লক্ষণগুলিকে একেবারেই হালকাভাবে নেবেন না:

কাজ বা ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব বা চরম ক্লান্তি দেখা দিলে অবিলম্বে যাত্রা থামিয়ে শুয়ে পড়তে হবে।

ক্রনিক ভারী রক্তপাতের কারণে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা অ্যানিমিয়া (Raktalpa) ডেকে আনে।

বারবার কাজ, মিটিং বা ভ্রমণ মিস করতে হলে বুঝবেন চিকিৎসকের মূল্যায়নের সময় এসে গেছে। ফাইব্রয়েড, অ্যাডেনোমায়োসিস, এন্ডোমেট্রিওসিস বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এর নেপথ্যে থাকতে পারে।

ভ্রমণে যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলি মাথায় রাখবেন:
যাঁদের আগে থেকেই অতিরিক্ত বা বেদনাদায়ক পিরিয়ডের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দীর্ঘ বিমান বা ট্রেন যাত্রার আগে অবশ্যই গাইনোকোলজিস্টের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। রক্তপাতের পরিমাণ, অ্যানিমিয়ার ইতিহাস এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পর্যাপ্ত স্যানিটারি পণ্য সঙ্গে রাখা অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাবস্থায় যেকোনো অপ্রত্যাশিত রক্তপাত বা পেটে ব্যথা হলে দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসা করানো উচিত।

বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, পিরিয়ডের সমস্যাকে “সহ্য করে নিতে হবে” এই ধারণায় বসে না থেকে, সময়মতো সচেতন হলে বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *