পুজোয় কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হচ্ছে রাজ্য! ১০ হাজারের বেশি জওয়ান নামাচ্ছে পুলিশ, বড় ঘোষণা

পুজো মানেই আনন্দ আর উৎসবের মেজাজ। তবে এই উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল ত্রিপুরা পুলিশ। আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (TSR) কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিরাট নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ মহানির্দেশক জি এস রাও।
পুলিশের মেগা পরিকল্পনা এক নজরে:
পুজোর সংখ্যা: এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ২,৯০৫টি দুর্গাপুজো আয়োজিত হওয়ার তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ। আগামী ১০ দিনে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গত বছর রাজ্যে মোট ২,৯৪৮টি পুজো হয়েছিল।
সহায়তা কেন্দ্র ও নজরদারি: নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করতে এ বছর পুরো রাজ্যজুড়ে ২৫৬টি পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র (Police Assistance Booth) খোলা হচ্ছে, যা গত বছর ছিল ২২০টি। এছাড়া মণ্ডপের ভিড় সামলাতে ১৮০ থেকে ১৯০টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ১৫৯টি ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে।
শপিংয়ের ভিড় সামলাতে পেট্রোলিং: উৎসবের আগে বাজার ও জনবহুল এলাকায় কেনাকাটার ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে ইতিমধ্যেই ২৯টি পুলিশ পেট্রোল ভ্যান মাঠে নামানো হয়েছে।
আগরতলা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা:
রাজধানী আগরতলা শহরে এ বছর প্রায় ৪৫০টি পুজো হতে চলেছে। দর্শনার্থীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে শহরজুড়ে কঠোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পুজোর দিনগুলিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ‘নো-এন্ট্রি’ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি, জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত মসৃণ রাখতে বিশেষ ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ দিনগুলিতে মহিলা পুলিশকর্মীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। রেল ও বিমানযাত্রীরা যাতে সময়মতো স্টেশনে বা বিমানবন্দরে পৌঁছতে পারেন, সে বিষয়েও বিশেষ পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন। পুজো কমিটিগুলিকে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক (Volunteer) রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ।