“বাড়ি-গাড়ির লোনে বড় ধাক্কা”-RBI রেপো রেট বাড়তেই সুদ বাড়াল একাধিক ব্যাঙ্ক

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর পরই হোম লোন ও কার লোনসহ একাধিক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটল দেশের একাধিক বড় ব্যাংক। পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB), ব্যাংক অফ বরোদা (BoB), ইন্ডিয়ান ব্যাংক, ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (BoI) এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক (IOB)-এর মতো প্রধান ঋণদাতা সংস্থাগুলি তাদের রেপো-লিঙ্কড লেন্ডিং রেট (RLLR/RBLR) বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের বাড়ি, গাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণের মাসিক কিস্তি বা EMI বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
RBI-এর রেপো রেট বৃদ্ধি
চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিজার্ভ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি কমিটি (MPC) সর্বসম্মতিক্রমে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় চার বছর পর এই প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট বাড়াল। মূল্যবৃদ্ধির গতি এবং টাকার অবমূল্যায়নের চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে RBI। একই সঙ্গে, মুদ্রাস্ফীতির পরিস্থিতি বিচার করে আগামী দিনে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে গভর্নর হিসেবে সঞ্জয় মালহোত্র দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম রেপো রেট বৃদ্ধির ঘটনা।
কোন ব্যাংক কতটা বাড়াল সুদ?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিগত পরিবর্তনের পরপরই বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলি ঋণের সুদ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছে:
-
পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংক (PNB): ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের রেপো-লিঙ্কড লেন্ডিং রেট ৮.১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮.৩৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা গত ৮ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে তাদের MCLR বা বেস রেটে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
-
ব্যাংক অফ বরোদা (BoB): এই ব্যাংকের ক্ষেত্রে RBLR ২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৭.৯০ শতাংশ থেকে হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ।
-
ইন্ডিয়ান ব্যাংক: চেন্নাই-ভিত্তিক এই ব্যাংকটি তাদের বেঞ্চমার্ক লেন্ডিং রেট ৭.৯৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮.২০ শতাংশ করেছে।
-
ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক: এই দুই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকই তাদের RBLR বাড়িয়ে এক লাফে ৮.৩৫ শতাংশ করেছে।
-
বেসরকারি খাত: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি তামিলনাড়ু মার্চেন্টাইল ব্যাংকের মতো বেসরকারি ঋণদাতাও তাদের RLLR ৮.২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮.৫০ শতাংশ করেছে।
গ্রাহকদের ওপর প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, রেপো রেটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন লোন নেওয়া যেমন ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে, তেমনই পুরনো ফ্লোটিং রেটের ঋণগ্রহীতাদের মাসিক কিস্তি বা EMI-ও বেড়ে যাবে। এর ফলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মাসিক বাজেট এবং দৈনন্দিন খরচের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আগামী দিনে পরিস্থিতি বিচার করে আরও বেশ কিছু ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।