মহালয়া থেকেই ভাসবে বাংলা? পুজোর আনন্দের মাঝেই আলিপুরের নিয়তি নির্ধারণী আবহাওয়ার পূর্বাভাস!

কাশের বন দুলছে, বাতাসে শিউলির গন্ধ আর ঢাকের বাদ্যি—উমা আগমনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে চারিদিকে। তবে উৎসবের আমেজের আবহেই শঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে বাঙালি হৃদয়ে। পুজোর কেনাকাটা থেকে শুরু করে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রাক-পুজোর ঠাকুর দেখা, সব কিছুতেই কি জল ঢেলে দেবে অঝোর বৃষ্টি? মহালয়া ও চতুর্থীর মুখেই আবহাওয়া দপ্তর দিল গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস।
মহালয়ায় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মহালয়ার দিন থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের পশলা বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ভোর ও বিকেলের দিকে তর্পণ ও কেনাকাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টিতে পড়তে হতে পারে পথচলতি মানুষকে।
কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সতর্কতা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগরে জলীয় বাষ্পের সঞ্চার এবং স্থানীয়ভাবে মেঘ সঞ্চালনের কারণে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
-
দক্ষিণবঙ্গ: কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় প্রাক-পুজোর দিনগুলোতে (মহালয়া থেকে চতুর্থী) হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গ: উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চল অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতেও গুঁড়িগুঁড়ি থেকে হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
কবে বিদায় নেবে বর্ষা?
সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলা থেকে বর্ষা বিদায় নিতে শুরু করে। তবে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বাতাস থেকে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় পুরোপুরি বর্ষা বিদায় নিতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। ফলে চতুর্থী বা পঞ্চমী পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির স্পেল জারি থাকতে পারে।
তবে আবহাওয়াবিদরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, একটানা ভারী বা অতিভারী বৃষ্টির কোনো বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা আপাতত নেই। তবুও মণ্ডপে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে ছাতা ও রেইনকোট সাথে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে!