পাহাড় থেকে সমতলে মেগা ধামাকা! ডুয়ার্স-তরাইয়ের ৩৯৬টি মৌজা কাড়ার ডাক, উত্তাল হতে চলেছে উত্তরবঙ্গ?

পাহাড়ের দীর্ঘদিনের জটিল রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী ও সাংবিধানিক সমাধানের খোঁজে আবার নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের রাজনীতি। এবার গোর্খা ভূখণ্ডের ভৌগোলিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার মোক্ষম চাল চালল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। দার্জিলিঙে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত বিশেষ মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে এক অত্যন্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডুয়ার্স ও তরাই সমতলের ৩৯৬টি গোর্খা অধ্যুষিত মৌজাকে প্রস্তাবিত নতুন স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীনে আনার জোরদার দাবি তুলল বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বাধীন দল।
দিল্লির দূতের সামনে মোর্চার বিস্ফোরক দাবি
দার্জিলিঙের এক অভিজাত বেসরকারি হোটেলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজ কুমার সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব এবং যুগ্ম সচিবের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেছিল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার এক উচ্চপ্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি জানান, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের হাতে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়েছে।
তাদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
-
গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA) বা পূর্বের ডিজিএইচসি (DGHC)-এর বাইরে থেকে যাওয়া তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের গোর্খা অধ্যুষিত ৩৯৬টি নির্দিষ্ট মৌজাকে নতুন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় যুক্ত করা।
-
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ১১টি গোর্খা জনগোষ্ঠীকে অবিলম্বে তফসিলি উপজাতির (ST) মর্যাদা দেওয়া।
-
গোর্খাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে মজবুত সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ গড়ে তোলা।
বোরোল্যান্ডের উদাহরণ টেনে রাজ্যকে বার্তা
অতীতের ডিজিএইচসি বা বর্তমানের জিটিএ—উভয় ব্যবস্থাই কেবল পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় তরাই ও ডুয়ার্সের বিপুল গোর্খা জনসংখ্যা এতদিন স্বায়ত্তশাসন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন রোশন গিরি। আসামের বোরোল্যান্ডের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, “আসামে বোরোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল গঠনের সময় একাধিক আস্ত জেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা কোনো নতুন জেলা দাবি করছি না, কেবল নির্দিষ্ট ৩৯৬টি মৌজা অন্তর্ভুক্তির কথা বলছি।”
অমিত শাহের বৈঠকের পরেই তোড়জোড়
গত আগস্ট মাসে শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে পাহাড়ি নেতাদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরই দিল্লির পক্ষ থেকে পঙ্কজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকেই পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও চুক্তি চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই সংস্থাকে।
পাহাড়ের নতুন এই দাবি রাজ্য রাজনীতিতে কতটা রাজনৈতিক ঝড় তোলে এবং দিল্লির এই মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত পাহাড়ে স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল।