অযোধ্যার মাটিতে দাঁড়িয়ে মহা-হুংকার! যোগী আদিত্যনাথকে কোন বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন সমাজবাদী পার্টি প্রধান?

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ফের একবার উত্তাপ ছড়িয়ে দিলেন সমাজবাদী পার্টির (SP) সুপ্রিমো তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। রাম জন্মভূমি অযোধ্যা নগরীর মাটিতে দাঁড়িয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান শাসকদল, সরকারি এজেন্সি এবং নির্বাচন কমিশনকেও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন সপা প্রধান।
অযোধ্যার মাটিতে দাঁড়িয়ে সপা প্রধানের চ্যালেঞ্জ
অযোধ্যায় আয়োজিত এক জমকালো শ্রীমদ ভাগवत কথার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন অখিলেশ যাদব। সমাজবাদী পার্টির নেতা পবন পাণ্ডের আমন্ত্রণে রসুলাবাদের ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই রাজনৈতিক আক্রমণ শানান তিনি। ভরা মঞ্চ থেকে অখিলেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজের ক্ষমতা প্রমাণ করতে চাইলে সরাসরি অযোধ্যা আসন থেকে নির্বাচনে লড়ে দেখান!”
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, রাজ্যে সমাজবাদী পার্টির সরকার গঠিত হলে অযোধ্যাবাসীদের জন্য বিশেষ উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে এবং উত্তরপ্রদেশের নারীদের প্রতি বছর ৪০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সুদর্শন চক্র ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে তোপ
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সুदर्शन চক্রের উদাহরণ টেনে বর্তমান বিজেপি সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান অখিলেশ। তাঁর বক্তব্য, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হাতে থাকা সুदर्शन চক্র কেবল सज्জন তথা সৎ মানুষদের সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে প্রশাসনিক ক্ষমতা এবং ক্ষমতার বিভিন্ন এজেন্সির চূড়ান্ত অপব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
অখিলেশ যাদব দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “রাজ্যপাট বা ক্ষমতা কখনোই কোনো ধরনের ছলচাতুরী বা বলপ্রয়োগ করে পাওয়া যায় না। সিংহাসন বা ক্ষমতা সর্বদা সাধারণ মানুষের ভালোবাসা এবং জনমতের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়।” মহাভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, শ্রীকৃষ্ণ কখনো ছল করে হস্তিনাপুরের গড্ডিকা দখল করতে চাননি, বরং তিনি সর্বদা ধর্মের পক্ষে থেকে পাণ্ডবদের ন্যায়ের লড়াইয়ে সমর্থন জুগিয়েছেন।
অযোধ্যার পবিত্র ভূমি থেকে সপা সুপ্রিমোর এই কড়া চ্যালেঞ্জ এবং আক্রমণাত্মক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর এই পারস্পরিক আক্রমণ যে পারদ আরও চড়াবে, তা বলাই বাহুল্য।