মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স সক্রিয়, হুথিদের বিরুদ্ধে কি তবে বৃহত্তর যুদ্ধের সূচনা?

ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ গঠিত হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ। শুধু তাই নয়, বর্তমানে সৌদি আরবের মাটিতে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পাক যুদ্ধবিমানের হামলা ও সিএনএন-এর দাবি

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শীর্ষ পাক সামরিক আধিকারিক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, হুথিদের নিশানা করে চালানো হামলায় পাকিস্তান এয়ার ফোর্সের যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুথিদের লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে রিয়াদও সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।

এর আগে গত বুধবার সিএনএন-এর কাছে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা উপস্থিতির কথা স্বীকার করেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। তবে কত জন সেনা সেখানে মোতায়েন রয়েছে বা তাঁদের কৌশলগত সক্ষমতা কেমন, সে বিষয়ে গোপনীয়তার কথা বলে মুখ খুলতে চাননি তিনি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন মার্কিন অ্যাটাশে কর্নেল ডেভিড ও স্মিথের মতে, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিকাঠামোর নিরাপত্তায় বর্তমানে সেখানে প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্য রয়েছে। তবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য হওয়ায় পাক স্থলবাহিনী সরাসরি ইয়েমেনের যুদ্ধে নামবে না বলেই তাঁর ধারণা।

কী এই ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’?

চলতি বছরের অগাস্ট মাসেই পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক মিলে ন্যাটো-র আদলে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তিন দেশের যে কোনও একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে। সম্প্রতি রিয়াদে তিন দেশের কৌশলগত কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই এই চুক্তি কার্যকর করার কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে।

ইরানের সঙ্গে কূটনীতির বড় পরীক্ষা

ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের গভীর অর্থনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক থাকলেও, প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে চলাই ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের নীতি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হস্তক্ষেপে পাক সংসদ অংশ না নেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু এক দশক পর মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্সের সক্রিয়তা এবং হুথিদের বিরুদ্ধে পাক যুদ্ধবিমানের ব্যবহারের খবর ইসলামাবাদকে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

সৌদির কৌশলগত মিত্রতা রক্ষা করা এবং তেহরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলার এই কঠিন ভারসাম্যের খেলায় পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *