কোনটা আসল, কোনটা ভুয়া? ছবি-ভিডিওর সত্যতা ফাঁস করতে গুগলের মাস্টারস্ট্রোক! এক ক্লিকেই ধরা পড়বে AI-এর কেরামতি

বর্তমান ডিজিটাল যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে ছবি, ভিডিও এবং অডিও তৈরির প্রবণতা দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রযুক্তি এতটাই উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে যে, কোনটা আসল মানুষের তোলা ছবি আর কোনটা এআই-এর সৃষ্টি—তা খালি চোখে চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সুযোগে ইন্টারনেটে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর বড় ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। তবে সেই ফাঁকফোকর বন্ধ করতে এবং ভুয়া কনটেন্টের মুখোশ খুলতে এবার বিরাট পদক্ষেপ নিল টেক জায়ান্ট গুগল (Google)।
গুগল নিয়ে এল তাদের বিশেষ অ্যাডভান্সড টুল ‘গুগল সিন্থআইডি ডিরেক্টর’ (Google SynthID Detector), যা এবার বিশ্বের সমস্ত সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত বা গ্লোবালি রোলআউট করা হচ্ছে।
কী এই SynthID এবং এতদিন কারা ব্যবহার করতেন?
২০২৩ সালে গুগল প্রথম এই ‘সিন্থআইডি’ প্রযুক্তি তৈরি করে। মূলত এতদিন পর্যন্ত কেবল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রফেশনালরা খবরের সত্যতা যাচাই করার জন্য এর প্রারম্ভিক সংস্করণ ব্যবহার করার সুযোগ পেতেন। তবে এবার যে কোনো সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীই এটি ব্যবহার করে কোনো অডিও, ভিডিও বা ছবি আসল না কি এআই-এর তৈরি—তা মুহূর্তের মধ্যে ধরে ফেলতে পারবেন। বর্তমানে এটি বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষায় উন্মুক্ত করা হচ্ছে।
কীভাবে কাজ করবে এই জাদুকরী টুল?
১. অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক খোঁজা: গুগল বা অন্যান্য সমর্থিত এআই মডেল (যেমন OpenAI, Nvidia, Kakao) যখন কোনো ছবি বা ভিডিও তৈরি করে, তার গভীরে একটি অদৃশ্য ডিজিট্যাল ওয়াটারমার্ক লুকিয়ে থাকে। SynthID টুলটি ডিজিটাল কনটেন্টের ভেতর লুকিয়ে থাকা সেই অদৃশ্য চিহ্ন বা ওয়াটারমার্ক মুহূর্তের মধ্যে খুঁজে বের করে।
২. সহজ ব্যবহারবিধি: যেকোনো অডিও, ভিডিও বা ছবি ফাইল কেবল এই টুলে আপলোড করতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের বিশ্লেষণেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে ছবিটি ম্যানুয়ালি নেওয়া নাকি এআই এডিটিংয়ের ম্যাজিক।
কেন এটি গেমচেঞ্জার?
গুগলের দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮০ বিলিয়নেরও বেশি ছবি-ভিডিও এবং প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার বছরের সমপরিমাণ অডিও ফাইলের ভেতরে এই ‘SynthID’ ওয়াটারমার্ক টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। গুগল জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অ্যাপলের (Apple) মতো অন্যান্য বড় টেক ব্র্যান্ডের এআই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করার ফিচারও এর সাথে যুক্ত করা হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইলটিতে যদি সংশ্লিষ্ট এআই মডেলের SynthID ওয়াটারমার্ক না থাকে, সেক্ষেত্রে টুলটি সতর্কবার্তা নাও দিতে পারে। তবুও ফেক নিউজের যুগে ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো ভুয়া ও প্রফেশনাল লেভেলের ডিপফেক কনটেন্ট রুখতে সাধারণ মানুষের হাতে গুগলের এই নতুন অস্ত্র অত্যন্ত কার্যকর ও বৈপ্লবিক প্রমাণিত হবে।