রাজধানীতে ‘মহা-সংগ্রাম’! টানা ৩ দিন রাজপথে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, ২৩ হাজার জওয়ান মোতায়েন হতেই তোলপাড় দিল্লি!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রণক্ষেত্রের রূপ নিল রাজধানী দিল্লি। নির্বাচন কমিশন থেকে রাজঘাট—’ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের সাংসদদের লাগাতার প্রতিবাদ ও মিছিলে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কেন্দ্রস্থলে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাঁধার অভিযোগে দিল্লি পুলিশ এফআইআর দায়ের করা সত্ত্বেও দমানো যায়নি বিরোধী সাংসদদের। উল্টে হুঙ্কার ছেড়ে রাহুল গান্ধী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ না করা পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না।”
২৩ হাজার জওয়ান মোতায়েন, দুর্গ রাজধানী
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় রাজধানীজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিজুড়ে সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেস (CAPF)-এর ২২১টি কোম্পানি—অর্থাৎ প্রায় ২৩,০০০ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো দিল্লি এখন কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নিরাপত্তা একধাক্কায় বৃদ্ধি
প্রতিবাদের তীব্রতা সরাসরি গিয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশনের ওপর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এতদিন ‘জেড প্লাস’ (Z+) স্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাঁর বাসভবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় বাড়তি বুলেটপ্রুফ কভার ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কনট প্লেস থেকে রাজঘাট: দফায় দফায় ধস্তাধস্তি
বৃহস্পতিবারও বিরোধীদের কর্মসূচিতে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। কনট প্লেসে মধ্যাহ্নভোজ সেরে বাসযোগে রাজঘাটের দিকে রওনা দেন বিরোধী সাংসদরা। তবে রাজঘাটে ঢোকার আগেই পুলিশ ভারী ব্যারিকেড গড়ে তাঁদের পথ আটকে দেয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বিরোধী সাংসদদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ব্যারিকেড না ভাঙতে পেরে সেখানেই ধরনায় বসেন সাংসদরা।
রাষ্ট্রপতির দরবারে মমতার নেতৃত্বে ১০ জনের প্রতিনিধি দল!
পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে চলেছে রাজনৈতিক স্তরেও। জানা গিয়েছে, আগামী শুক্রবার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা। ১০ সদস্যের এই হাই-প্রোফাইল দলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকতে পারেন বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে নতুন করে সিজেপি-র বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সামলাতে সতর্ক দিল্লি পুলিশ।