অহেতুক গ্রেফতারি ও হেনস্থার দিন শেষ! ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে জিএসটি কাউন্সিলের কোন যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে কাঁপল শিল্পমহল?

দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের দীর্ঘদিন ধরে চলা এক বড় উদ্বেগের অবসান ঘটাতে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এবার থেকে আর চাইলেই করদাতাদের সরাসরি গ্রেফতার করতে পারবেন না জিএসটি (GST) আধিকারিকরা। দিল্লিতে আয়োজিত জিএসটি কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কর অফিসারদের হাতে থাকা গ্রেফতারির এই পরম ক্ষমতা একলহমায় কেড়ে নেওয়ার প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর বসানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সভাপতিত্বে নেওয়া এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে সারা দেশের ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম উল্লাসের হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং করদাতাদের হয়রানিমুক্ত করতেই মূলত জিএসটি আইনে এই বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এখন থেকে জিএসটি আইনের অধীনে ফৌজদারি মামলা এবং গ্রেফতারির ন্যূনতম সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে একধাক্কায় ৫ কোটি টাকা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ৫ কোটি টাকার নিচের কোনও মামলাতেই সরাসরি গ্রেফতারি চালানো যাবে না।
শুধু তাই নয়, জিএসটি কাউন্সিল স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্দিষ্ট জরিমানার বিধান না থাকলে আগে যেখানে ২৫,০০০ টাকা সাধারণ জরিমানা চাপানো হতো, তা কমিয়ে এখন করা হয়েছে মাত্র ১০,০০০ টাকা। পাশাপাশি, ছোটখাটো ভুলত্রুটি বা দেরিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বকেয়া কর, নির্দিষ্ট সুদ এবং অনুপাতিক জরিমানা আদায় করা হলেও, কোনও অবস্থাতেই অতিরিক্ত হয়রানিমূলক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না।
দীর্ঘদিন ধরেই দেশের শিল্পমহল ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি কর ব্যবস্থার জটিলতা এবং অহেতুক গ্রেফতারির আতঙ্ক নিয়ে বারবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অভিযোগ জানিয়ে আসছিল। এই প্রসঙ্গে বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, কেবল রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি বা করের হার পরিবর্তন নয়, বরং ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে আইনি বোঝা কমানো এবং নির্ভয়ে ব্যবসা করার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন জিএসটি কাউন্সিলের মূল লক্ষ্য। সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকে ভারতে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে এক নতুন যুগের সূচনা হলো বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।