১৩ বছর শান্ত থাকার পর ছাড়া পাওয়ার ঠিক মুখে চম্পট! সতনা সেন্ট্রাল জেলে ‘আদর্শ’ বন্দির রহস্যময় পলায়নে তোলপাড়

মধ্যপ্রদেশের সতনা সেন্ট্রাল জেলে ঘটে গেল এক চরম অবিশ্বাস্য ও সিনেম্যাটিক ঘটনা। জেলের নিরাপত্তার ফাঁক গলে চম্পট দিল এক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। তবে এই ঘটনা শুধু কয়েদি পালানোর নয়, বরং যে বন্দিটি পালাল—তার পেছনের রহস্য শুনে মাথায় হাত জেল কর্তৃপক্ষের। টানা ১৩ বছর ৪ মাস অত্যন্ত শান্তশিষ্টভাবে জেল খাটার পর এবং মুক্তির আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকতে হঠাৎ কেন এভাবে পালালেন ওই কয়েদি? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন হন্যে পুলিশ ও প্রশাসন।
কে এই ‘মিষ্টার গুড’?
পলায়নকারী কয়েদির নাম ভালোলাল ওরফে ভালোলাল প্রজাপতি (৫২)। একটি হত্যার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়ে তিনি সতনা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন। জেলের ভেতরে ও বাইরে তাঁর আচরণ এতটাই শান্ত ও মার্জিত ছিল যে জেলের রক্ষী ও আধিকারিকরা ভালোবেসে তাঁকে ‘মিষ্টার গুড’ বলে ডাকতেন।
-
১৫ বার প্যারোল ও সততা: সাজা চলাকালীন তিনি মোট ১৫ বার প্যারোলে সাময়িক মুক্তি পেয়ে বাইরে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিবারই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজে থেকেই জেলে ফিরে আসেন।
-
৮৯ হাজার টাকার উপার্জন: জেলের ভেতরে ও বাইরে গৌশালা বা সাফাইয়ের কাজ করে তিনি প্রায় ৮৯,০০০ টাকা উপার্জন করেছিলেন, যার একটি টাকাও তিনি খরচ করেননি।
মুক্তির আলো দেখার ঠিক আগেই পলায়ন!
ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে জেলের গৌশালা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় ভালোলাল দায়িত্বরত প্রহরীর কাছে শৌচাগারে যাওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু মন্দির সংলগ্ন বাথরুমে যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে গেলেও তিনি আর ফেরেননি। খোঁজ খবর করতেই বোঝা যায়—তিনি জেল চত্বর থেকে চম্পট দিয়েছেন।
সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হলো, ভালোলালের ১৬ নম্বর প্যারোল ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়ে গিয়েছিল এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর চিরতরে মুক্তির সম্ভাবনা ছিল।
প্রশ্নের মুখে জেলের নিরাপত্তা
যে কয়েদি ১৩ বছর ধরে কখনো কোনো নিয়ম ভাঙেননি, সহ-বন্দিদের সঙ্গে ঝামেলা করেননি এবং মুক্তির খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি কেন হঠাৎ এভাবে পালালেন? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র বা অপরাধ?
ঘটনার পরই সতনা সেন্ট্রাল জেলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জেল সুপার লীনা কোস্টা জানিয়েছেন, দায়িত্বে থাকা রক্ষীদের গাফিলতি ছিল কি না তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ বিভিন্ন দল গঠন করে ফেরারি কয়েদি ভালোলাল প্রজাপতির খোঁজে সম্ভাব্য সমস্ত আস্তানায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।