দেশজুড়ে ৩৮ হাজার হাসপাতালে মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসা! মানিকচকে দাঁড়িয়ে কী কী বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু?

মালদার বন্যা বিপর্যস্ত মানিকচক ও রতুয়া পরিদর্শনে গিয়ে আমূল পরিবর্তনের একগুচ্ছ মেগা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্যা ও গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গতদের পুনর্বাসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যবিমা, সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA), এমনকি কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রেই একাধিক বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানালেন তিনি।

বন্যা ও ভাঙনে বিরাট ক্ষতিপূরণ

মানিকচকে বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতিমধ্যেই ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের ঘর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে, তাঁরা গৃহনির্মাণের জন্য পাবেন ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির ক্ষেত্রে ৯০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

এর পাশাপাশি, অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়া ৫ হাজার পরিবারকে দেওয়া হবে জরুরি ত্রাণসামগ্রী, যার মধ্যে রয়েছে নতুন জামাকাপড়, মশারি ও ত্রিপল।

স্বাস্থ্যবিমা ও সরকারি কর্মচারীদের ডিএ নিয়ে সুখবর

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিরাট ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁরা প্রধানে নাম নথিভুক্ত করতে পারছেন না, তাঁদের জন্য একই সুবিধাসম্পন্ন ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পরিষেবার অধীনে গোটা দেশের প্রায় ৩৮ হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

পাশাপাশি, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মেটাতে ১৬ অক্টোবরের আগে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) সহ বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আম প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট ও ১২৫ দিনের কাজ

মালদার ঐতিহ্যবাহী আম চাষকে উৎসাহ দিতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ কর্মসংস্থানে গতি আনতে চালু করা হয়েছে ‘১২৫ দিনের কাজের’ বিশেষ সুযোগ। আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েত থেকে জব কার্ড হোল্ডাররা মোট ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি পাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বিধবা ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা এবং ‘পিএম কিষাণ’ প্রকল্পে সাধারণ বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও ৩,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তা

প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “পূর্বে আবাস বা ১০০ দিনের কাজে ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে। ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে আমরা প্রকৃত দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছি। তবে সাধারণ মানুষের টাকা যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং জেলে যেতেই হবে।”

একইসঙ্গে জেলাশাসকদের (DM) মাধ্যমেই দ্রুত সিএএ (CAA) সংশোধিত নাগরিকত্ব শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এলাকা জুড়ে কোনো প্রকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা প্রদান করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *