রঞ্জির দল ঘোষণায় সিএবি-র বিরাট চমক! অধিনায়ক থেকে আইনি জটিলতা কাটানো স্টার— কারা পেলেন সুযোগ?

আসন্ন রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচের জন্য ১৭ সদস্যের শক্তিশালী দল ঘোষণা করল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (CAB)। বেশ কিছুদিন ধরে দল পরিচালনা এবং অধিনায়কত্ব নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত অভিমন্যু ঈশ্বরণের হাতেই রাখা হয়েছে নেতৃত্বের ব্যাটন। একই সাথে সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে সুদীপ কুমার ঘরামিকে।
বুধবার প্রথম ম্যাচের স্কোয়াড নির্বাচনের জন্য বৈঠকে বসেছিলেন নির্বাচকরা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বাংলা দলের প্রধান কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা।
আগামী ১১ অক্টোবর, রবিবার থেকে কল্যাণীর বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে আয়ুষ বাদোনিদের শক্তিশালী দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করছে বাংলা।
পেস আক্রমণের ‘ত্রিফলা’ এবং আইনি জটিলতা কাটিয়ে ফেরা অভিষেক
দিল্লির বিরুদ্ধে পেস-সহায়ক কল্যাণীর উইকেটে আগুন ঝরাতে প্রস্তুত বাংলা। দলে রাখা হয়েছে ভারতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামি, আকাশদীপ এবং মুকেশ কুমারকে। পেস বিভাগের এই ‘ত্রিফলা’ আক্রমণ যেকোনো ব্যাটিং লাইন-আপের চিন্তার কারণ হতে পারে।
দল ঘোষণার পাশাপাশি ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর কেড়েছে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অভিষেক পোড়েলের অন্তর্ভুক্তি। ব্যক্তিগত জীবনের আইনি জটিলতা ও ৩৭ দিন জেল খাটাল পর জামিনে মুক্ত হয়েই দলে জায়গা পেলেন এই তরুণ ক্রিকেটার। অভিষেককে দলে রাখা প্রসঙ্গে কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা জানান, “খারাপ সময় মানুষের জীবনে আসতেই পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তা কাটিয়ে আবার মূলস্রোতে ফিরে আসা। দলের সবাই ওর পাশে রয়েছে এবং ও অবশ্যই পারফর্ম করে নিজেকে প্রমাণ করবে।”
শাহবাজের অনুপস্থিতি ও শামির জাতীয় দলে ফেরার আশা
তবে প্রথম ম্যাচে চোটের কারণে বাংলা পাচ্ছে না গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার শাহবাজ আহমেদকে। দলীপ ট্রফিতে চোট পাওয়া শাহবাজের অনুপস্থিতি কিছুটা উদ্বেগ বাড়ালেও কোচ আশাবাদী, দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই তাঁকে পাওয়া যাবে।
অন্যদিকে, জাতীয় দলের বাইরে থাকা মহম্মদ শামি প্রসঙ্গে কোচ বেশ আশাবাদী। তিনি বলেন, “শামি দুর্দান্ত মেজাজে রয়েছে। গত মরশুমেও ও সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক ছিল। আমাদের বিশ্বাস, এই পারফর্ম্যান্স ধরে রেখে ও খুব শীঘ্রই ভারতীয় দলে ফিরবে।”
ঘোষিত ১৭ সদস্যের বাংলা দল: অভিমন্যু ঈশ্বরণ (অধিনায়ক), সুদীপ কুমার ঘরামি (সহ-অধিনায়ক), সুদীপ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক পোড়েল (উইকেটরক্ষক), শাকির হাবিব গান্ধী (উইকেটরক্ষক), অঙ্কুর পাল, সুমন্ত গুপ্ত, অঙ্কিত চট্টোপাধ্যায়, শুভম দে, মহম্মদ শামি, আকাশদীপ, মুকেশ কুমার, সূরজ সিন্ধু জয়সওয়াল, প্রদীপ্ত প্রামানিক, আমির গনি, মোহাম্মদ কাইফ ও সৌম্যদীপ মণ্ডল।