“পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই!” প্রবীণ সিপিএম নেতার বাড়িতে হামলার পর বিস্ফোরক মন্তব্য মমতার!

প্রবীণ আইনজীবী তথা সিপিআইএম (CPIM) নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের কলকাতার বাসভবনে ভোররাতে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, দুষ্কৃতীরা কীভাবে নির্লজ্জভাবে হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভেঙে তছনছ করেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে সরাসরি ফোন করে বিকাশরঞ্জনের খোঁজ নেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

“ফোনে কথা বলেছি, পাশে আছি” — মমতা

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই প্রবীণ এই আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি ক্ষুব্ধ বার্তা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, বারুইপুর কোর্ট, ব্যাঙ্কশাল কোর্ট, চন্দননগর এবং শালবনির পর আবার আজ এই নৃশংস ঘটনা ঘটল।

তিনি লেখেন:

“মতাদর্শগত এবং আইনি দিক থেকে গত ১৫ বছরে আমরা এবং বিকাশদা প্রায়শই ভিন্ন অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু সৌজন্য বা ভদ্রতার সীমারেখা কখনও আমরা অতিক্রম করিনি। আজ যেভাবে বিরোধী স্বরকে রুদ্ধ করা হচ্ছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। আমি নিজে একজন আইনজীবী হিসেবে সমস্ত আইনজীবীকে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গত পাঁচ মাসে ঘটে যাওয়া একাধিক অপরাধের পরিসংখ্যান প্রমাণ করে রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং এক সরকার-পোষিত নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে।

তীব্র ক্ষোভ বাম-কংগ্রেস ও রাজনৈতিক মহলে

হামলার খবর ছড়াতেই প্রবীণ নেতৃত্বের বাসভবনে এসে পৌঁছান বামকর্মীরা। সিপিএম কলকাতা জেলা কমিটির তরফ থেকে যাদবপুর অজয়নগর থেকে শুরু করে বিকাশরঞ্জনের বাড়ির সামনে পর্যন্ত এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।

  • বাম নেতৃত্বের হুঙ্কার: সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের অতনু চক্রবর্তী এবং সিপিএম নেতৃত্ব এই হামলার জন্য বিজেপির দুষ্কৃতীদের দায়ী করে সমস্ত বাম ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধের ডাক দিয়েছেন।

  • কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার ঘটনার ধিক্কার জানিয়ে বলেন, “এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, তাঁদেরই কণ্ঠরোধ করার এক সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা।”

  • তৃণমূলের ক্ষোভ: তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “বাইকবাহিনীর হামলার এই কুসংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার। বিরোধী কণ্ঠরোধে এই গুন্ডারাজের বিরুদ্ধে মিলিত প্রতিবাদ জরুরি।”

অন্যদিকে, বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অন্যায়ের নিন্দা জানালেও ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা সামাজিক অসুস্থতার ফল বলে উল্লেখ করেছেন।

সমগ্র ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার না করায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে এই ঘটনার জেরে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্যের রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *