মিডিয়া রিপোর্টিং বন্ধের দাবি? হাই কোর্টের দরবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা আর্জি ঘিরে তোলপাড়!

বিচারাধীন মামলায় সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা এবং দায়িত্বশীলতা নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালতে চলমান বিভিন্ন স্পর্শকাতর মামলা সম্পর্কিত মিডিয়া রিপোর্টিং ও খবরের সেনসেশনালাইজেশন বন্ধের দাবিতে তিনি হাইকোর্টে একটি বিশেষ আর্জি পেশ করেছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি আইনি ও সংবাদমাধ্যমেও তৈরি হয়েছে জোর চর্চা।
আদালতে কী আর্জি জানালেন অভিষেক?
হাইকোর্টে পেশ করা আবেদনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে মূলত বিচারাধীন মামলাগুলির ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কভারেজ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে।
-
বিচারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা: আর্জিতে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন বা বিচারাধীন মামলায় সংবাদমাধ্যমের একতরফা অথবা অসত্য প্রচার বিচারপ্রক্রিয়া এবং জনমানসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
-
সংবাদ পরিবেশনায় নির্দেশিকা जारी করার দাবি: চলমান মামলাগুলির ক্ষেত্রে কীভাবে তথ্য পেশ করা উচিত এবং বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত না করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরির আর্জি জানানো হয়েছে।
“বিচারাধীন বিষয নিয়ে অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্প্রচারিত হলে তা কেবল অভিযুক্তের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে না, বরং সঠিক বিচার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করে।” — আইনি সূত্রের মাধ্যমে আর্জির মূল সুর।
চর্চায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বনাম মিডিয়া ট্রায়াল
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপকে ঘিরে আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একপক্ষের মতে, ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর সংস্কৃতির কারণে অনেক সময়ই নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার আইনি অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপর আর্জি যৌক্তিক। অন্যদিকে, বিরোধীদের একাংশ মনে করছেন, খবর পরিবেশন করা সংবাদমাধ্যমের মৌলিক অধিকারের আওতায় পড়ে।
কলকাতা হাইকোর্ট এই আর্জির ভিত্তিতে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টিং সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো নতুন নির্দেশিকা জারি করে কি না, এখন সেদিকেই নজর পুরো রাজ্যের।