‘পৃথিবী প্রায় পুরোটাই লাল!’ সুপার-ডুপার এল নিনোর ভয়ংকর দাপটে আসছে চরম দুর্যোগ?

আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করছে এল নিনো (El Nino)। বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা অনুযায়ী, চলতি বছরের এল নিনো এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে যা বিগত ১৯৫০ সালের পর অন্যতম তীব্র ঘটনা হিসেবে রেকর্ড গড়তে চলেছে। এর সরাসরি ও মারাত্মক প্রভাব পড়তে চলেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়া, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ওপর।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO)-র তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে। বিগত শক্তিশালী এল নিনোগুলির তুলনায় এই পূর্বাভাস অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। এর জেরে কোথাও দেখা দিতে পারে তীব্র খরা, আবার কোথাও নামতে পারে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যার বিপর্যয়।
বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ জেকে হাউসফাদার দাবি করেছেন যে চলতি এল নিনো সম্পূর্ণ নজিরবিহীন মাত্রার দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ লিওন সিমন্স এই চরম পরিস্থিতিকে ‘সুপার-ডুপার এল নিনো’ (Super-Duper El Nino) বলে অভিহিত করেছেন। ডব্লিউএমও-র পূর্বাভাস বলছে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এর প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই প্রাকৃতিক এল নিনোর দাপট যুক্ত হয়ে আগামী দিনে তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।