১২ লাখের বিমার টাকা আর জমির লোভ! প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে যা করল স্ত্রী, জানলে শিউরে উঠবেন

১২ লাখের বিমা, জমি ও পরকীয়া! প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করল স্ত্রী, ফাঁস হল চাঞ্চল্যকর রহস্য
উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহর জেলায় ঘটে যাওয়া এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্যভেদ করল পুলিশ। সম্পত্তির লোভ, ১২ লক্ষ টাকার বিমার অর্থ এবং অবৈধ সম্পর্কের জেরে স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার অভিযোগে স্ত্রী সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর বুলন্দশহরের ডিবাই কোতোয়ালি এলাকার উদয়পুর গ্রামের কাছে একটি কিচেন বা কাদামাখা জায়গা থেকে মুকেশ (পুত্র প্রেমপাল) নামে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট না হওয়ায় পুলিশ আধুনিক প্রযুক্তি ও সার্ভিল্যান্সের সাহায্য নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সুতো এগোতেই নিহতের স্ত্রী পুনমের দিকে সন্দেহ গিয়ে পড়ে। এরপর পুলিশি জেরার মুখে পড়তেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য।
তদন্তে জানা গিয়েছে, পুনম গত তিন মাস ধরে দাদ্রির একটি নার্সারিতে কাজ করতেন। সেখানেই আহমেদগড়ের ভটপুরা গ্রামের বাসিন্দা কবেন্দ্রর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তা প্রেমে গড়ায়। অভিযোগ, এরপর থেকেই স্বামীকে রাস্তা থেকে সরানোর ছক কষতে শুরু করে তারা। এই কাজে কবেন্দ্রর এক সঙ্গী অরবিন্দও সহায়তা করেছিল।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা অনুযায়ী কবেন্দ্র মুকেশকে প্রথমে প্রচুর পরিমাণে মদ খাওয়ায় এবং তাকে গ্রামের বাইরে এক নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল পুনম ও কবেন্দ্রর অন্য এক সহযোগী। এরপর তিনজন মিলে অত্যন্ত নির্মমভাবে মুকেশের মুখ কাদায় চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে খুন করে এবং পালিয়ে যায়।
পুলিশের তদন্তে আরও জানা গেছে যে, মুকেশের নামে প্রায় ১০ বিঘা জমি ছিল, যার বেশিরভাগটাই সে বিক্রি করে দিয়েছিল। বাকি থাকা এক বিঘা জমিও বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে, যার তীব্র বিরোধিতা করেছিল পুনম। এর পাশাপাশি মুকেশের নামে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার জীবন বিমাও ছিল। মূলত এই সম্পত্তি, বিমার টাকা এবং অবৈধ সম্পর্কের পথ পরিষ্কার করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।